এডিটর'স চয়েস সাহিত্য

অচিনপুর অথবা যে-কোনো হুমায়ূনবই

শেয়ার করুন:

অচিনপুর। সব মিলিয়ে ৫৬ পৃষ্ঠার বই। উপন্যাস।

আর, জানানো দরকার, এটি হুমায়ূন আহমেদের বই।

হুমায়ূন আহমেদের কোনো গল্পউপন্যাসই বড় নয়। উপন্যাসের ভারী শরীর তিনি পছন্দ করেন না। ভারি ছিমছাম স্লিম তার বইয়ের শরীর। বর্ণনাভঙ্গি এমন যে তিনি যতটা বলেন তার চেয়ে ঢের বেশি না-বলা থেকে যায়। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠায়। না-বলা আবেগের অভিব্যক্তি কী সরল বাক্যে এবং আচরণে যে বাংলা ভাষায় কাহিনির পর কাহিনির পাতায় রেখে গেছেন মহান এই লেখক!

তিনি মনে করেন, মানবচরিত্র অতি জটিল ও রহস্যময়। তার উপন্যাসের চরিত্রগুলোও হয় তেমনই। নির্ভার মেদহীন উপন্যাসগুলোর মধ্যে এই এক সাধারণ বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে যে এখানে যেন অনেককিছু বক্তব্য সংবরণ করে না-বলার ইচ্ছেকে বাঁচিয়ে রেখে তিনি রহস্যময়তা সৃষ্টি করতে চান।

‘অচিনপুর’ উপন্যাসে দেখব বয়ঃসন্ধিতে উপনীত রঞ্জুর চোখ দিয়ে লেখায় উঠে আসা নানাজান, বড়নানি, ছোটনানি, বাদশামামা, নবুমামা, সফুরাখালা, লিলি, লালমামি ইত্যাদি নামের সব চরিত্র হয়ে উঠেছে অন্তরঙ্গ ও নিবিড় বাস্তব অচিনপুরের অধিবাসী।

বড়সড় একান্নবর্তী একটি যৌথ পরিবার। বিশাল বাড়ি, বিষণ্ণ কতিপয় নিকটসংলগ্ন মানুষ ক্রমে কেমন করে অর্জন করল বিচ্ছিন্নতা তারই বিশ্বাসযোগ্য কল্পকথা ‘অচিনপুর’।

হুমায়ূন আহমেদ নিজে এই বই প্রসঙ্গে বলেন, “অচিনপুরের গল্প লিখতে গভীর বিষাদে মন আচ্ছন্ন হয়ে আসছে। অনুভব করছি, সুখ এবং দুঃখ আসলে একই জিনিস। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুখ বদলে গিয়ে দুঃখ হয়ে যায়। দুঃখ হয় সুখ। জীবনের প্রবল দুঃখ ও বেদনার ঘটনাগুলি মনে পড়লে আজ আমার ভালো লাগে। প্রাচীন সুখের স্মৃতিতে বুক বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়’।

বাংলাদেশের আটপৌরে মধ্যবিত্ত আবেগের ভাষাকার হুমায়ূন আহমেদের প্রাঞ্জল গদ্যভাষায় রচিত হয়েছে ‘অচিনপুর’। অনেকটাই যেন জলরঙে আঁকা অস্পষ্ট তুলিচিত্রের মতো ‘অচিনপুর’ বইয়ের গদ্য ও গল্পের সমঞ্জস বিন্যাস।


অবন্তি ইসলাম

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *