প্রতিবছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস এলে দেশে যেমন তেমনি বিদেশে দেশান্তরে এই বিশেষ দিনের আনুপূর্বিক ইতিহাস বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় ফিলাডেলফিয়ায় গত ২৯ মার্চ হয়ে গেল বিএসিএফ টিভির আয়োজনে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ আলেখ্য ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্নিঝরা দিনগুলোর বীরগাথা, ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী এই স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান। সঙ্গে ছিল দেশাত্মবোধক গান এবং মুক্তিযুদ্ধের কবিতা আবৃত্তি ও পাঠ অধিবেশন।
বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়ায় বসবাসরত ১১জন কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই আয়োজন। অন্তরঙ্গ এই আয়োজনে যে-মুক্তিযোদ্ধারা হাজির ছিলেন তারা হলেন—ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, এমডি; আবু আমিন রহমান; আবু তাহের (বীরপ্রতীক); কাদেরী কিবরিয়া; ড. মো. খালেকুজ্জামান মতিন; ফেরদৌসী নাজমী; কামরুজ্জামান; মোহাম্মদ শওকত ইমাম; আব্দুল মতিন তফাদার; মতিউর রহমান এবং মো. আব্দুল মতিন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বিজয়া সেনগুপ্তা এবং আবৃত্তিকার আব্দুল হাফিজ চৌধুরী।

বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়ায় বসবাসরত এই ১১জন কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা সরাসরি রণক্ষেত্রের সম্মুখযোদ্ধা, নৌ-কমান্ডো, গেরিলা যোদ্ধা, শব্দসৈনিক, কিশোরযোদ্ধা এবং বিচ্ছুযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছেন। সমবেত শ্রোতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই ইতিহাস-সন্ধানী আয়োজনটি হয়ে ওঠে অধিকতর প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে হয়, আজকের দিনে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎ পাওয়া সত্যিই কঠিন। কিন্তু আমাদের জন্য এটি গর্ব ও সৌভাগ্যের বিষয় যে, এমন ১১জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়ায় বসবাস করছেন। তাঁদের জীবন্ত স্মৃতিচারণ, অজানা গল্প এবং মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল উক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য, আয়োজকদের সম্ভাষণে এই কথাগুলো স্পষ্ট হয়েছে।
বিএসিএফ টিভি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানটি ছিল এক অনন্য মিলনমেলা—ইতিহাস, আবেগ ও গৌরবের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।



