এডিটর'স চয়েস সাহিত্য

মৃত্যুগাছ ও অন্যান্য || বেলাল আহমেদ

শেয়ার করুন:

আব্বার শবযাত্রা থেকে ফিরে

দেওকলস মন্থর এখন, তুমি যাও না বলে
নদী, বৃক্ষ, চাঁদ, ত্রস্ত খাড়িমুখে আচ্ছন্ন সূর্য—
পরস্পর সংক্রমিত। ক্ষোভে, ভয়ে পুনরাভিনয়
তুমি যাও না বলে, জয়শঙ্খের মর্মছিঁড়া ডাক শুনি না

ফ্যাকাশে অবয়ব, নিশুতি গোপন এবং সোঁদাগন্ধ
বালিভূমি, শাখামূল; বাতাসে ভাসমান, ঘোরগ্রস্ত—
সন্দিগ্ধ সন্ধ্যাসংগীত, এখনও বিমূঢ়ভাবে উপেক্ষারত
তুমি যাও না বলে, গাছের জীবন নিয়ে চলে তারা

আব্বা আমি ভ্রান্তিমগ্ন; হৃদয়চ্যুত, অকৃতকার্য শব
বাজাও বিকল ভায়োলিন, বুকভরা দীর্ঘশ্বাস তোমার

 

 

মৃত্যুগাছ

আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল মৃত্যুগাছ—
হাড়-কোলাহল ও অন্যান্য হাতছানি নিয়ে

ক্ষমতা মানেই তো লু-হাওয়া—
হতবাক নদী

অন্ধ তস্কর জানে,
নদীরা বাকল খুলে দিলে
বান আসে—
মৃত্যু ও মাছ এবং নিরুপায় পাখি

তুমি তো চন্দ্রপুরি, ডাকবাকশো।
ও সমুদ্রের মা—
চলো, একসঙ্গে ভালোবাসি
মৃত্যুগাছ অথবা নদীকে।

 

 

আম্মা

এই যে বেলা গেল, নদী ও গতরের অ-ভাব
আম্মা বলেছিলেন, সে-বেলায়ই, অথচ—
আম্মা কেবল রক্তাক্ত সময়ের ঘড়িই ছিলেন

জাতিস্মরের অগ্নিভ বন্ধনী এঁকে এঁকেই—
কণ্ঠ ও স্বরহারা হয়েছেন, নিভৃতে উদ্দেশ্যহারা
তবু আম্মাই স্থৈর্য আর মেধানদীতে ভাসিয়েছেন

আম্মা আম্মা বলে যত গান, শব্দরা ছিল, তারা সবাই—
বলে গেছে, আম্মা ব্যথাকারখানা, আম্মা বিষাদের টোটেম


বেলাল আহমেদ। কবি। বিশ্বনাথ সিলেটে জন্ম। সপরিবার যুক্তরাজ্য আবাসিক

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *