১.
বনজ্যোৎস্নায় ধুয়ে যায় তোমার কাঠগোলাপি বুক,
সাক্ষী নিশাচর বৃক্ষ ও পক্ষীকূল, গতগল্পের মলাট ছিঁড়ে অক্ষরমালা ধাবিত তোমার মৌনতার উন্মাতাল সুগন্ধি বরাবর; যে ভাষা নৈঃশব্দের, যে ভাষা অবরোহনের।
কিছু আনন্দ তো থাকে যার চোখে বেদনার নদী…
কিছু বেদনা তো থাকে যার ঠোঁটে আনন্দের আবীর…
শিশুদের কোলাহল শেষে পড়ে থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় এখানে জন্মান্তরের অতীত থেকে চুপিসারে বেড়ে ওঠে আগামির ম্যাপল পাতাগণ।
আমি চুপচাপ দেখি, দেখে যাই, বিভিন্ন রঙের সাথে পাখিদের মাখামাখি আলো ও আঁধার…
২.
দক্ষিণাযজ্ঞের ভিতর
ট্রামের ঘণ্টা বাজে।
তোমার ধুকপুক ধুকপুক বুক
ছাপিয়ে একটা আয়ুসংবেদী
বাল্বের ভিতর কয়েকটা কাগজের মাছ
অচেনা অভিমানে টাইপরাইটারের
জিহবায় মাখতে থাকে ঘন কুয়াশার ক্ষীর।
কাঁকড়ার ক্যালেন্ডার ধীরে ধীরে গিলে ফেলে
প্রয়াত সব মঙ্গলবার, মঙ্গলবারের নীল।
আমাদের দক্ষিণা ও যজ্ঞসমেত আয়ু পড়ে থাকে
জেব্রা ক্রসিং-এ।
এ শহরে ট্রাম নেই, কেবল ট্রামের অপেক্ষার মতো
তুমি আছো।
আর আছে রাত থেকে গলে গলে আসা
ফোঁটা ফোঁটা শব্দের ভোর
আর
আরেকটা দিন না-আসা ট্রামের তালাশ।
৩.
বড় অবেলায় ফুটলা গো ফুল, বড় নিষ্ফলা…
আমি বাড়ি বাড়ি ভিখ মাঙলাম, দু’টা ফুল, খানিক সুবাস, একটু আতর-চন্দন: ও পুষ্প, তোমার দুয়ারে এসে সাদা হয়ে আছি; মাখাও জল, মেঘের আবির…! তোমার ঘরটুকু থাক, থাক না হয় বারান্দাটিও, উঠানটুকুতে হলেও একটা পিঁড়ি পেতে দাও…!
আমি বাড়ি বাড়ি মাকে খুঁজে খুঁজে, ঘর খুঁজে খুঁজে হয়রান। ও পুষ্প, তুমিও কি খুঁজেছো আমায় গন্ধগোকুলের ভিড়ে?
ভিখঘুমে মাকে বলতে শুনেছি, বাবা রে, বাড়ি আসিস!
মা গো, ফুলগাছ কি ঘর হয়ে ওঠে?
পরিচিতি

মিসবাহ উদ্দিন। কবি। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পড়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্রাই উনিভার্সিতাত বার্লিন-এ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক। ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা


