রাজনীতি

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬

শেয়ার করুন:

—২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
—আলোচনায় মির্জা ফখরুল সহ একাধিক নাম, সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা—কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি?

 

আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেনি।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কে দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন, সে সিদ্ধান্ত তাঁর হাতেই।

মির্জা ফখরুল নিজেও বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে কে প্রার্থী হবেন, সে সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যানই নেবেন। ফলে তাঁকে ঘিরে আলোচনা জোরালো হলেও এখনই তাঁকে নিশ্চিত প্রার্থী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আলোচনায় আরও যারা

মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান-এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

এ তালিকায় বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দলীয় নেতাদের বাইরে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান-এর নামও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব নামের কারও প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

 

বিএনপির প্রার্থীই এগিয়ে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ ভোটাররা এ নির্বাচনে ভোট দেন না; জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

ফলে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, সেটিই এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচন হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোটের প্রয়োজন নাও হতে পারে; তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।

১৩ আগস্টেই মিলতে পারে উত্তর

তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নিশ্চিত হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি এখন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের দিকে। কারণ তাঁর সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন নির্বাচন

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি রাষ্ট্রপতির পদে বহাল ছিলেন। পরে গত ২৪ জুলাই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এর পর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।


ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *