রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান। দিস কিড ইজ জাস্ট আউট অব দ্য ওয়ার্ল্ড। ওর কথায়, এক্সপ্রেশনে, মুভমেন্টসে চোখে লাগে শুধু অমায়িক আত্মবিশ্বাস, কনফিডেন্স ফুল অব নায়িভিটি। নক-আউটে ডি-বক্সের বাইরে থেইকা ওই মোহনীয় ফ্রি-কিকের পরে, সুলিভান আমাদের ইয়াং-রাইজিং সুপারস্টার। সুপারস্টার হওয়ার সব গুণ ওর ব্যক্তিত্বে আছে।
মালদ্বীপে অনূর্ধ্ব-বিশ ফাইনালে ইন্ডিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শুট-আউটে সুলিভানের নেওয়া শেষ ফ্রি-কিকটা যে-কোনো একপ্রান্তে তীব্র একটা সেইফ-শট হইতে পারত। কিন্তু আমাদের রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান মুহূর্তটারে যেন আরো মহিমান্বিত করল। ম্যাচ-ডিসাইডিং ফাইনাল স্পট-কিকে পেনানকা শট নিলো। পেনানকা শট নিয়া আমাদের চ্যাম্পিয়ন করল।
ইতিহাসে এইরকম ঘটনা দুইবার ঘটছে মাত্র। উনিশশো-ছিয়াত্তরে পেনানকা শটের পিতা চেক-লেজেন্ড আন্তোনিন পেনানকা ইউরো-কাপের ফাইনালে শেষ-স্পটকিকে প্রথমবারের মতো এই বেহেস্তি মোমেন্ট সৃষ্টি কইরা পুরা ফুটবলবিশ্বে ক্যাওস লাগাইয়া দেন। তারপর সাম্প্রতিক সময়ে দুইহাজারবাইশের ফুটবল বিশ্বকাপ সুপার-সিক্সটিনে মরক্কোর আশরাফ হাকিমি এই মুহূর্ত উপহার দেন স্পেনের বিপক্ষে। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয় মরক্কোর।

পেনানকা-শট ফুটবলদেবতা মেসিও খেলেন। কিন্তু ফাইনালে শেষ-স্পটকিকে এইরকম মুহূর্ত মেসির লাইফেও এখন পর্যন্ত আসে নাই। আহ!
বাংলাদেশের ফুটবলে একটা জোয়ার তৈরি হইছে। হামজা, শমিত, সুলিভানের মতো সুপারস্টার পাইতেছি আমরা। এইটা দরকার। যে-কোনো সৃষ্টিতে আইকন দরকার। কিন্তু এই আইকন প্রোপার বিল্ড-আপে সৃষ্টি করতে হয়। এইসব আইকনের যত্ন নিতে হবে। সরকার এবং ক্রীড়া-মন্ত্রণালয় যেন এইরকম এক সুযোগরে দূরদর্শী প্ল্যানের মাধ্যমে সৃষ্টিশীল এক ভবিষ্যতে পরিণত করতে পারে।
হাসান শাহরিয়ার এপ্রিল ২০২৬
*অভিমত সম্পূর্ণতই লেখকের।



