মুক্তি পেল ‘ধুরন্ধর : দ্য রিভেঞ্জ’। মূলধারা ভারতীয় কমার্শিয়াল ম্যুভি। হিন্দি। তিন ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ব্যাপ্তির এই ছবি দেখলে মনে হতে পারে যেন কোনো ওটিটি সিরিজ় দেখছেন। ছোট-ছোট কয়েক খণ্ডে ছবিটি বিভক্ত। সিকুয়ালের সেকন্ড পার্ট এইটা। আগের ম্যুভিটার মতোই। বীভৎস।
অত্যন্ত টানটান এই ছবির চিত্রনাট্য। ফলে এর পৌনে-চারঘণ্টা ব্যাপ্তিও অত দীর্ঘ মনে হয় না। আর তীক্ষ্ণধার চিত্রনাট্য অধিক ধারালো করেছে রণবীর সিঙের অভিনয়। ডাবল পার্ট তার, এই সিনেমায়, দুই রূপেই তিনি দুর্ধর্ষ। ঠিক যে-যে ভাবে চিত্রনাট্য বদলেছে, চরিত্রকেও ঠিক সেই-সেই ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। কখনও ঘরের ছেলে জসকিরত হয়েছেন, কখনও করাচির বাদশা হামজ়া। ডাবল পার্ট। ক্রোধ, আক্রোশ, স্নেহ, ভালোবাসা সবটাই যেন রনবীরের অভিব্যক্তিতে লেখা।
আস্ত ম্যুভি জুড়ে অর্জুন রামপালের অভিনয় যেন স্ফুলিঙ্গের মতো। মারদাঙ্গা অ্যাকশনের দৃশ্য হোক বা তার শান্ত গলায় সংলাপ বলার যে এক বিশিষ্ট ধরন, সবটাই উপভোগ্য। সঞ্জয় দত্ত পর্দায় নিজের অভিনয়নিপুণতার উপযুক্ত ব্যবহার করেছেন। রক্তারক্তির চূড়ান্ত প্রকাশ এই সিনেমায় রাকেশ বেদীর অভিনয় দর্শকমুখে একটু হাসি ফোটায়, যেমন সারা অজুর্নের মিষ্টি উপস্থিতি বীভৎস রসের ছবিতে যেন স্বস্তির বাতাস বহায়।

সত্যির সঙ্গে মিথ্যে মেশালে আদতে তা কতটা সাংঘাতিক হতে পারে, এই সিনেমা দেখে তা বোঝা যায়। নৃশংসতাকে যে যে ভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে, এই সিনেমায়, গায়ে কাঁটা দেয়। হিংসা হানাহানি খুন রক্ত নরবলী আর মৃত্যুকেও যে এমন উপভোগ করা যায়, এই ছবির চরিত্ররা তা প্রমাণ করে ছেড়েছে। যেন ছবি জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শত্রুকে নৃশংসভাবে হত্যা করার উৎসব!
উল্লেখ প্রাসঙ্গিক হবে, ‘অ্যানিম্যাল’ সিনেমার সাফল্যের পর থেকে এখন ভারতীয় সব রাজ্যের সিনেমাতেই বীভৎস রক্তকাণ্ড শুরু হয়েছে। এরই অভিঘাতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সিনেমাও গা ভাসিয়েছে বীভৎসতায়। শাকিব খান, সিয়াম, নিশো প্রমুখ বাংলাদেশি হিরোরা এখন কেউ বস্তির রনবীর কেউ বস্তির খান। তবে এই বীভৎস মশল্লার ফর্মুলা বিরক্তির পর্যায়ে চলে গেছে এরই মধ্যে।
দেহ থেকে মস্তক আলাদা করে দেওয়ার দৃশ্য হোক বা জনসমক্ষে সেই কর্তিত মস্তক নিয়ে ফুটবল খেলার দৃশ্য, ম্যুভিটি দেখতে দেখতে ভাবলেশহীন হয়ে যেতে হয়। একজন ভারতীয় অ্যাজেন্টের সাফল্য গ্লোরিফাই করার চূড়ান্ত পর্যায়ে যায় এই ছবি। কেউ প্রশ্নও তুলবে না আদৌ কোনও ভারতীয় অ্যাজেন্ট করাচির বাদশা হয়েছিল কি না, একা হাতে এত লোককে খতম করেছিল কি না! আর আদৌ কোনও ভারতীয় অ্যাজেন্ট ৪৫ বছর ধরে পাকিস্তানে ঘর করেছে কি না, ছায়াছবিতে যেমন দেখানো হয়, আদৌ কোনও অ্যাজেন্টকে ভারত স্বীকৃতি দিয়ে ফিরিয়ে এনেছে কি না! কারে কে জিগায়। দেশকাল ভেসে যায় হিংসার হাওয়ায়।

প্রশ্নগুলো রয়েই যাবে অন্তরালে। এই মৃত্যুউপত্যকায় এই বিবাদপীড়িত বিশ্বে একটি সিনেমা আপামর দর্শকের মনোরঞ্জন করলেই হলো। পয়সা ফেলে জনতা এই নৃশংসতা গিলছে গোগ্রাসে। এদেশে সেদেশে সবদেশে। এসব নিয়ে একটু সুস্থির বসে ভেবে দেখবে এমন নাই কেউ।
ম্যুভিটি ডিরেক্ট করেছেন আদিত্য ধর। অভিনয় করেছেন রণবীর সিং, অর্জুন রামপাল, আর. মাধবন, রাকেশ বেদী, সারা অর্জুন, সঞ্জয় দত্ত সহ অনেকে।
আলোচনা : মাহমুদ মুস্তফি



