বিনোদন

বর্ষাবরণে চারুকলার ‘ঘনঘটা ২’: নৃত্যের ছন্দে মুগ্ধতা ও সংস্কৃতির উচ্ছ্বাস

শেয়ার করুন:

ঢাকা, ১৭ জুলাই : বর্ষা মানেই জলাবদ্ধতা, যানজট কিংবা নগরজীবনের ভোগান্তি—এই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে বর্ষার সৌন্দর্য, বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে উদযাপনের এক অনন্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার অর্থি আহমেদের উদ্যোগে এবং চারুকলা অনুষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঘনঘটা ২’। সকাল ১১টায় বকুলতলার ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে বসে এই সুর ও নৃত্যের আসর। ‘ঘনঘটা–২’ শীর্ষক এই বর্ণিল নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন তিন শতাধিক নৃত্যশিল্পী, যাদের সম্মিলিত পরিবেশনা মুগ্ধ করে হাজারো দর্শককে।

বর্ষার আবহ, প্রকৃতির রূপ এবং বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতিকে নৃত্যের ভাষায় তুলে ধরা এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অনুষ্ঠানে ছিল মানবিক উদ্যোগও। জাগো ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে স্থাপিত অনুদান বুথের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হয়।

সকালের নির্মল পরিবেশে বকুলতলা যেন পরিণত হয়েছিল এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। বিভিন্ন বয়স, পেশা ও মতের মানুষ একত্রিত হয়ে উপভোগ করেন বাঙালির শেকড়ের এই অসাধারণ উৎসব। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, আয়োজকদের নিখুঁত পরিকল্পনা, শিল্পীদের দীর্ঘ অনুশীলনের প্রতিফলন এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এনে দেয় ভিন্নমাত্রা।

অনুষ্ঠান শেষে দর্শকদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কেউ লিখেছেন, “এত ভঙ্গ, বঙ্গদেশ তবু রঙ্গে ভরা”—কবির সেই পঙ্‌ক্তি যেন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আবার কেউ মন্তব্য করেন, “সারাদিন ধরে অনুষ্ঠানটির ছবি ও ভিডিও দেখেও মন ভরছে না। মনে হচ্ছে, যেন অপার্থিব এক সৌন্দর্যের সাক্ষী হলাম। এমন আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।”

আরেকজন লিখেছেন, “বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরে, যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাসে আয়ুক্ষয়ের শঙ্কা, সেখানে ‘ঘনঘটা’ যেন এক টুকরো নির্মল প্রশান্তি। এই আয়োজন বারবার ফিরে আসুক।”

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের মতে, মোবাইলনির্ভর বিনোদনের এই সময়ে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ঘনঘটা’র মতো আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রার মতো এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগও একদিন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন অনেকে।

বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের অমর পঙ্‌ক্তি যেন দিনটির আবহকে আরও অর্থবহ করে তোলে—

“এইখানে
পৃথিবীর এই ক্লান্ত, এ অশান্ত কিনারার দেশে,
এখানে আশ্চর্য সব মানুষ রয়েছে।”

বর্ষার রূপ, নৃত্যের ছন্দ, মানবিকতার বার্তা এবং বাঙালির সংস্কৃতির গৌরব—সব মিলিয়ে ‘ঘনঘটা–২’ হয়ে উঠেছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক উৎসব, যা দর্শকদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


নিজস্ব প্রতিবেদক 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *