সমাজ

ড. ফাতেমা আহমেদ : প্রকৃতিনিমগ্ন এক আলোকবর্তিকা || আশরাফুল ইসলাম আরিফ

শেয়ার করুন:

কিছু মানুষ পৃথিবীতে আসেন শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জীবনকে একটু সহজ, একটু সুন্দর আর একটু আলোকিত করার জন্য। তাদের পরিচয় কোনো পদবি, পেশা বা সামাজিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তারা হয়ে ওঠেন একটি সমাজের আস্থা, ভালোবাসা ও মানবতার প্রতীক। আমাদের কমিউনিটির কাছে ডাঃ ফাতেমা আহমেদ—সবার প্রিয় ‘ফাতেমা আপা’—তেমনই এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

প্রায় সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিরলসভাবে মানুষের সেবা করে চলেছেন। চিকিৎসক হিসেবে অসংখ্য মানুষের শারীরিক সুস্থতা ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মানুষদেরও সাহস জুগিয়েছেন অকৃত্রিম আন্তরিকতায়। অসুস্থতা, দুঃসময় কিংবা সংকটে—ফাতেমা আপার দরজা যেন সবসময়ই সবার জন্য খোলা।

তবে তাঁর পরিচয় শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসক নন। কমিউনিটির প্রায় প্রতিটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর আন্তরিক উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বইমেলা, বৈশাখী উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, দাতব্য কার্যক্রম কিংবা কোনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—যেখানেই মানবতার ডাক, সেখানেই নীরবে-নিভৃতে উপস্থিত থাকেন তিনি। প্রচারের আলোয় নয়, মানুষের মুখের হাসিতেই তিনি খুঁজে পান নিজের সার্থকতা।

সম্প্রতি তাঁর বাড়ির আঙিনার কিছু ভিডিও ও ছবি দেখে সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেল। ব্যস্ত জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে যেন এক টুকরো জীবন্ত প্রকৃতি। তাঁর উঠানে নিশ্চিন্তে বিচরণ করছে হরিণের পাল, ফুলের বাগানে ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে রঙিন প্রজাপতি, আর ভোরের প্রথম আলোয় পাখিদের কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। মনে হয়, প্রকৃতি যেন তাঁকে নিজের একজন আপনজন হিসেবেই বেছে নিয়েছে।

জানা গেল, প্রতিদিন তিনি নিজের হাতে এসব প্রাণীর জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেন। তাদের যত্ন নেন এমন মমতায়, যেন তারা তাঁরই পরিবারের সদস্য। মানুষের প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা তিনি বছরের পর বছর ধরে বিলিয়ে দিয়েছেন, সেই ভালোবাসা সমানভাবে ছড়িয়ে দিয়েছেন নির্বাক প্রাণীদের প্রতিও। এমন দৃশ্য আজকের ব্যস্ত, আত্মকেন্দ্রিক পৃথিবীতে সত্যিই বিরল।

মাঝেমধ্যে মনে প্রশ্ন জাগে—একজন মানুষ কীভাবে এত মানুষের পাশে দাঁড়ান, এত সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন, আবার প্রকৃতিকেও এতটা সময় ও ভালোবাসা দিতে পারেন? হয়তো এর উত্তর খুঁজতে হয় না। যাদের হৃদয় মানবতা, মমতা আর ভালোবাসায় পূর্ণ, তাদের কাছে সেবা কোনো দায়িত্ব নয়—এটাই জীবনের আনন্দ, এটাই তাদের ইবাদত।

আমাদের সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তাই ডাঃ ফাতেমা আহমেদের মতো মানুষরা শুধু একজন চিকিৎসক নন; তারা একটি কমিউনিটির নৈতিক শক্তি, মানবিকতার বাতিঘর এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

এমন মানুষদের সম্মান জানানো মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো নয়; বরং মানবতা, সহমর্মিতা ও নিঃস্বার্থ সেবার মূল্যবোধকে সম্মান জানানো। আমাদের প্রার্থনা—ডাঃ ফাতেমা আহমেদ সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হোন, তাঁর সেবার আলো, ভালোবাসার পরশ এবং প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ আগামী দিনগুলোতেও এভাবেই অসংখ্য মানুষের জীবন আলোকিত করে যাক।


আশরাফুল ইসলাম আরিফ 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *