—ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক
—ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে বিনিয়োগ ও সংস্কারে জোর
—গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞদের অভিমত
—নীতি ধারাবাহিকতা, সুশাসন ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশকে আগামী এক দশকের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নীতি-সহায়তা, সুশাসন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নীতির ধারাবাহিকতা এবং আর্থিক খাতে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। তবে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং উদ্ভাবনে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

গোলটেবিলে আরও বলা হয়, শুধু উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠন সম্ভব নয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের জবাবদিহিতা, করব্যবস্থার আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার মতো বিষয়গুলো সমান গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম শিল্পখাত গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তারা।
গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সঠিক নীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আগামী দিনের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে।
ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা



