—গ্যাস নেই, বাড়ল এলপিজির দাম
—দিনভর নিভে থাকে চুলা, গভীর রাতে রান্না
—নির্ধারিত দামে মিলছে না সিলিন্ডার, অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র পাইপলাইন গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো গ্রাহক। দিনের অধিকাংশ সময় বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় রান্না কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার এলপিজি, ইনডাকশন কুকার ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেই এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে গ্যাস সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির দ্বিমুখী চাপে দিশেহারা সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার (২ আগস্ট) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এই দামে সিলিন্ডার মিলছে না। ভোক্তাদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেক বিক্রেতা সিলিন্ডারপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছেন।
রাজধানীর মিরপুর, কল্যাণপুর, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা জানান, ভোরের পর থেকেই গ্যাসের চাপ কমে যায়। দুপুর পর্যন্ত অধিকাংশ বাসায় চুলা জ্বলে না। কোথাও অল্প গ্যাস এলেও তাতে রান্না করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক পরিবার গভীর রাতে গ্যাস এলে তখনই রান্না সেরে নিচ্ছে।
কল্যাণপুরের বাসিন্দা সেলিনা আহমেদ বলেন, “মাসে নিয়মিত গ্যাস বিল দিচ্ছি, অথচ রান্না করতে হচ্ছে সিলিন্ডারে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, সেই দামে কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। বাড়তি টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছি।”
গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবারকে একই সঙ্গে পাইপলাইনের গ্যাস বিল, এলপিজি কেনার খরচ এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বহন করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বাসাবাড়িতে রান্না ব্যাহত হওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের চাহিদা বেড়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, সেই সুযোগে কোথাও কোথাও খাবারের দামও বাড়ানো হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের ঘাটতির পাশাপাশি সমুদ্রে থাকা এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর প্রভাব শুধু আবাসিক খাতে নয়; শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন খাতেও পড়ছে। জ্বালানির এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
ভোক্তা অধিকারকর্মীদের দাবি, একদিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, অন্যদিকে বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় সংকটের পুরো বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকেই।
ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা


