বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট তীব্রতর হচ্ছে এবং এর পেছনে যুদ্ধসঙ্কুল সংঘাতই প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন।
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে এবং তীব্র ক্ষুধার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব; আর এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে সংঘাত এখনও শীর্ষে রয়েছে, এমনটাই উঠে এসেছে জাতিসংঘ সমর্থিত এক সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-র সমন্বয়ে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিসেস ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৪৭টি দেশে প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে ছিল। এই সংখ্যা বিশ্লেষণকৃত জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষুধা এখন আর সাময়িক সংকট নয়; বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানুষের অর্ধেকেরও বেশি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। যুদ্ধ ও সহিংসতার ফলে বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ভাঙন এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সুদান, ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানের মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন—এই ১০টি দেশেই বিশ্বের তীব্র ক্ষুধায় আক্রান্ত মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাস করে।
সংঘাতের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা ও চরম আবহাওয়া খাদ্য সংকটকে আরও তীব্র করছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে। একই সঙ্গে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো—
* সংঘাত প্রধান চালিকাশক্তি : তীব্র ক্ষুধার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে সংঘাত সরাসরি দায়ী।
* বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি : খাদ্য সংকটপ্রবণ এলাকায় ৮৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
* অর্থায়নে ঘাটতি : খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রায় এক দশক আগের পর্যায়ে নেমে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৬ সালেও খাদ্য সংকট গুরুতর অবস্থায় থাকতে পারে।
বর্তমানে বিশ্বে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যাদের মধ্যে লাখো মানুষ দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির ঝুঁকিতে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে সংঘাত নিরসন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানবিক সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং নারী ও শিশুদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তারিক হাসান ঋজু । প্রকৌশলী



