ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত ঐতিহাসিক মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে। আগামীকাল ১৯ জুলাই এখানেই অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহারণ, যেখানে মুখোমুখি হবে ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ফুটবল বিশ্বের নতুন সম্রাট।
প্রায় ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ক্রীড়াঙ্গন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১০ সালে উদ্বোধন হওয়া এই স্টেডিয়ামটি এনএফএলের দুই জনপ্রিয় দল নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস ও নিউ ইয়র্ক জেটসের হোম ভেন্যু। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও এর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনাল, ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল—সবকটিই আয়োজিত হয়েছে এই স্টেডিয়ামে।
এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে টুর্নামেন্টটির আয়োজন করছে। ১০৪ ম্যাচের দীর্ঘ লড়াই শেষে বিশ্বকাপের পর্দা নামবে নিউ জার্সির এই স্টেডিয়ামেই।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপ চলাকালে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে “নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম”। ফাইনাল উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিস এবং হাজারো স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শকদের যাতায়াতে কোনো সমস্যা না হয়।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবার যুক্ত হচ্ছে আরেকটি নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে আয়োজন করছে হাফটাইম শো, যা আমেরিকার বিখ্যাত সুপার বোলের আদলে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে দর্শকরা শুধু ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, বরং ক্রীড়া ও বিনোদনের এক অনন্য বৈশ্বিক উৎসবও উপভোগ করবেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক তারকাদের অংশগ্রহণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্টেডিয়ামের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে বিশ্বনাগরিক শিল্প
বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে দর্শকদের নজর কেড়েছে “Scenes From Our Streets” শীর্ষক একাধিক বিশাল ম্যুরাল। নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য ও ক্রীড়াপ্রেমকে তুলে ধরতে ছয়জন স্থানীয় শিল্পী এই ম্যুরালগুলো নির্মাণ করেছেন।
বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে শিল্পী জিহান ওয়াজেদ (Zeehan Wazed)-এর ম্যুরাল। বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত কুইন্সভিত্তিক এই শিল্পীর পরিবার উত্তর আফ্রিকার লিবিয়ার বেনগাজি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করে। তাঁর শিল্পকর্মে মানবিক সংযোগ, শান্তি ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজের বার্তা ফুটে ওঠে। বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে আসা হাজারো দর্শক এই শিল্পকর্মের সামনে ছবি তুলছেন।
ফুটবল, সংস্কৃতি, বিনোদন ও বৈশ্বিক মিলনমেলার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। এখন শুধু অপেক্ষা—১৯ জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের, যখন স্পেন কিংবা আর্জেন্টিনার একজন অধিনায়ক বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন, আর তখনই নতুন ইতিহাস রচিত হবে ফুটবলের মহাগ্রন্থে।
আশরাফুল ইসলাম আরিফ



