একগুচ্ছ কবিতা : পাহাড়ের পায়ের কাছে || বদরুজ্জামান আলমগীর
হাতের পাঁচ আঙুল; পাহাড়তত্ত্ব; পোকোনো স্টেইট পার্কে সাবধানবাণী; That organ; পাহাড়ের দিলের ভিতর; জলপ্রপাতের দিব্যি
হাতের পাঁচ আঙুল
পাহাড়ের কাছে নতজানু হয়েছি আজ
দেখি অতলান্তে জমা আছে সামান্য খুদকুঁড়ো
সত্যিই তো, অট্টালিকার শীর্ষ জটাচুলে
চূড়া করে বাঁধা কালের ফাটল আর দ্বিগুণ সমিধ
আরও দূরে সমাহিত কত নির্লিপ্ত পাশ ফেরা,
সেলাই করা দেখা অদেখায় মগ্নতা তাদের।
চোখের সামনে খানিক মেলে ধরবার দুদণ্ড নিরাশা
পাইনি এক চিলতে ভোরে, চোখের মণি জুড়ে বসা
এমন উড্ডীন কবর, পরিহিত শিশুমৃত্যুর মিনার।
এক জোনাকি নীরবতার সাথে মোলাকাত হলে
হুড়মুড় ভেঙে পড়ে কতো যে রক্ষিত আনাগোনা
বহুদিন পর আজ এতোটা অন্তঃপুরের সাথে
চোখের সামনে নিজেরই জন্মের নথি ওড়ে দেখি—
সহসা হাতের পাঁচ আঙুল হয়ে ওঠে সিলিকন ভ্যালি।
পাহাড়ের হিয়ার ভিতর
পাহাড় দেখার মধ্যে একটা আশ্চর্য বাতিনি আছে
বিশেষকরে কাঁচা ভোরের কিছুটা বোবা পাহাড়—
ধরুন, আকাশ তার উপর নিরলে নেমে এসেছে
গাছগুলো একসাথে একান্নবর্তী পরিবারের মত
বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বির দহলিজে মাথা নুয়ে দাঁড়ানো।
এমন একটি দৃশ্যপটের সামনে আমাদের মন
বুড়ি দাদিমার আগলে রাখা পুরনো দরজা বুঝি
অপেক্ষায় মলিনতাময় নরম নরম, কিছুটা খাপছাড়া
যার পানের বাটা আনমনে অজান্তে একটা সিন্দুক—
যেখান থেকে কেউ চলে যায় না, মোছে না কোন গন্ধ।
ভোরের পাহাড় আমাদের বানিয়ে দেয় বুড়ি দাদিমা—
এজমালি মন খুলে বসে এক খয়েরি কার্নিভাল—
জানালার বাইরে পাহাড় খুলে ধরে পথহারা আতাফল
তার দীর্ণ প্রতিটি মোলায়েম দানায় মিশানো
আমাদের চলে যাওয়া সকল প্রাণনাথ, সজল স্বজন
সবাই আছে এই পাহাড়ে জমাট বাঁধা শন শন বহমান।
জলপ্রপাতের দিব্যি
হরিণ মৃত কী জীবিত— পরিসংখ্যান যা বলুক
এস্রাজ আদি ও অন্তে বাজে, থেমে নেই।
এস্রাজের ব্যাকুল টানে আমরা সকলে ভেসে যাই
তারাফুল, নাকফুল, মাছের পিঠে সন্তরণ
একমুহূর্তের জন্যেও জলপ্রপাত আজ থেমে নেই।
এতোটা খাদ, তার শিয়রে অনির্বচনীয় এমন উত্থান—
বুঝতে সারে সার চলি যেন এক জন্মের ধাঁধা—
বুঝতে যাই অন্তরালে খুঁজতে যাই— সন্তর্পণে কান পাতি
কীভাবে এমন স্নেহে অবিরল মরমে পশে এস্রাজ
জন্মের আগ থেকে জন্মের পর বহে একই জল
নিচের তীব্র গহবর থেকে ঘুরে আসে একই মিরাকল।
এক শঙ্খ নিনাদ দুপুরের দ্বৈরথ কথা আর সন্তাপে
গহীনতর মূর্ছনায় জলমোহর ও পরাগ উছলি এমন
মালিকানা হয়— যা সর্বস্বান্ত, সুরের মধু কিয়ামত।
আজই প্রথম বুঝি— এমনও মালিকানা হয়—
ঈশ্বর ও মানুষ দুই-ই আকুল উন্মূল— উদ্বাস্তু গৃহহীন।
পাহাড় তত্ত্ব
নিজেকে বন্যার সাথে, নদী ভাঙনের মুখে
ঝড়বৃষ্টি শিলাচূর্ণের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়,
বৃষ্টি হলে আমরা মাথায় কালো রঙিন ছাতা ধরি
রোদ হলে লাফিয়ে টপাটপ নামি জলে।
ক্ষুধা পেলে মায়ের কাছে বসি, খাবার চাই
ঘুম পেলে জায়গা করে ধুপধাপ শুয়ে পড়ি
ডাকাত পড়লে লাফিয়ে পালাই, পুলিশ ডাকি
খরা হলে শুকিয়ে যাওয়া সবজির পায়ে জল দিই।
আজ স্তম্ভিত পাহাড়ের পায়ের কাছে দাঁড়াই—
আকাশ নুয়ে এলে, বৃষ্টি যদি দেয় বিপুল ঝাপটা
ফেরেশতার আগুন চোখ চিরে বজ্রপাতে চমকায়,
শিহরণবাদী সাসকোয়েহানা যদি বিলাপ করে ওঠে
পাহাড় বিচলিত হয় না, দীর্ঘশ্বাস ফেলে না
কেবল জন্মের আগের ও জন্মের পরের অনড়
এক নির্লিপ্ত পাথর একমুহূর্তের জন্যও নড়ে না!
পোকোনো স্টেইট পার্কে সাবধানবাণী
ভল্লুক গাছগাছালির ফলমূল শস্যাদি খায়
তাদের অঙ্কের ক্লাসে যেতে হয় না,
বাড়ির গ্যাসচুল্লিতেও দাঁড়াতে হয় না তাদের
প্রকৃতি নিজেই হিসাব মত খাবারে মসলা মিশিয়ে রেখেছে
তাই ভল্লুকদের সমরবিদ্যা হেব্জ করতে হয় না;
হাতের পাঁচ আঙুলের মত বসে থাকা শস্য খেয়ে
দিব্যি নাদুসনুদুস হয়ে ওঠে ভল্লুকদের বংশলতিকা।
তাই আমরা তোমাদের গরুর লেজের কায়দায় সোজা
একটা অনুরোধ করছি— তোমাদের পাতের খাবার
ভল্লুকদের ছিটিয়ো না, বা রেখো না না-খাওয়া স্ন্যাকস।
সরল ভল্লুকেরা অন্যের খাবার খেয়ে অভ্যস্ত হলে
তোমাদের ফেকরা হবে, তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।
তোমরা ফিলিস্তিন, ইরান আর ইউক্রেন সামলাতেই
দেখো কেমন নাস্তানাবুদ হিমশিম খেয়ে উঠছো,
নতুনকরে ভল্লুকদের যুদ্ধের ময়দানে ডেকে এনো না।
That organ
You got that organ prayerfully catchy
The vibes spontaneously I swing by
Achieved me fruits yellow mango all.
Not a horse rather not a puffy lion yet
run across a forest mountain rhymes.
My childhood green elementary school
two blocks off my neighbourhood.
Science stress, success of urban life
Flashes in higher end Buzzy shop
I back out of a trendy flock of trojans
A long trip to Pocono gets me old dust
not shinny without an antique touch.
Nothing could capture me in a bit
all except your usual known sad smile
Brings me ease on any days shaggy
You got that organ prayerfully catchy.

বদরুজ্জামান আলমগীর। কবি ও নাট্যকার




Masudul Hasan Sarwar Daniel
July 29, 2026”‘পাহাড়ের পায়ের কাছে’ শুধু কবিতার একটি সংকলন নয়, এটি যেন ভাষা, প্রকৃতি, স্মৃতি, প্রেম, মানুষ এবং সময়ের গভীর অন্তর্জগতের এক অনন্য ভ্রমণ। প্রতিটি কবিতায় চিত্রকল্প, রূপক এবং শব্দের নির্মাণ পাঠককে নতুন করে ভাবতে শেখায়। বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতায় যেমন আছে মাটির গন্ধ, তেমনি আছে বিশ্বজনীন অনুভবের বিস্তার। একবার পড়ে শেষ করা যায়, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে মনে থেকে যায়। কবিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। আরও এমন শক্তিশালী ও মননশীল কবিতা আমাদের সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করুক।”