সুচিত্রা ভট্টাচার্য রচিত ‘মিতিনমাসি’ উপন্যাস সিরিজের যে-একটি কিশোরপাঠ্য সমগ্র পাওয়া যায়, মেঘের পরে মেঘ গল্পটা/আখ্যানটা তার মধ্যে নেই। ‘পালানোর পথ নেই’, ‘একটা শুধু রং নম্বর’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘বিষ’, ‘তৃষ্ণা মারা গেছে’ ইত্যাদি গল্পগুলো মোটেই কিশোরপাঠ্য নয়, নেহাতই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। ফলে ‘মিতিন মাসি’ সিরিজে মেঘের পরে মেঘ উপন্যাস অবলম্বনে অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘মিতিন একটি খুনির সন্ধানে’ শীর্ষক সিনেমাটি এই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির প্রথম ‘বড়দের ছবি’ (রেটিং ইউএ ১৬+)।

উচ্চবিত্ত ঘরণী তমালিকা বসু একদিন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর প্রজ্ঞাপারমিতা মুখোপাধ্যায় ওরফে মিতিনের কাছে আসে তার স্বামী পিনাকী বসুর কিডন্যাপিঙের কেইস নিয়ে। কিডন্যাপাররা মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে পাঁচ কোটি টাকা। এদিকে পরের দিন পিনাকীর মৃতদেহ পাওয়া যায় তারই নিবাসভবনের অন্য এক ফ্ল্যাটে। ময়নাতদন্তে জানা যায় খুনের সময় মুক্তিপণের ফোন আসার আগের। তা হলে কে করল খুন, কে-ই বা চাইল মুক্তিপণ? দু’জন কি একই ব্যক্তি, নাকি পৃথক?

মিতিন চরিত্রকে স্রষ্টা সুচিত্রা ভট্টাচার্য সাজিয়েছিলেন একটু অন্যরকম ভাবে। সে ঠিক ফেলুদা বা ব্যোমকেশের মতো নয়। ঘরোয়া, সংসারী, সংবেদনশীল নারী। কিন্তু ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন, শরীরচর্চা করা দুঁদে গোয়েন্দাও। স্বামী পার্থ, বোনঝি টুপুরের সঙ্গে তার নিত্যদিনের খুনসুটি মিতিনের গল্পগুলোকে উপভোগ্য করে তোলে।

মিতিন একটি খুনির সন্ধানে-তে পার্থর সেই ইয়ার্কি নেই বললেই চলে। যেমন শাঁসালো মক্কেলের কাছ থেকে মিতিন কত পারিশ্রমিক চাইতে পারে, বা তমালিকা চাইলে বাড়ি থেকেই পেয়ে যাবে পাঁচ কোটি টাকা, এহেন যে-কথাগুলো গল্পে রয়েছে, তা সিনেমায় নেই। এমনকি টুপুরের অ্যাডভেঞ্চারও নেই। আদ্যন্ত সিরিয়াস এবং ‘অ্যাডাল্ট’ থ্রিলার হিসেবে পরিচালক ছবিটি নির্মাণ করেছেন। মিতিনের গল্পের এই সিগনেচারগুলো চলে গেলে শুধু জেন্ডার বাদে অন্য গোয়েন্দাদের সঙ্গে পার্থক্য খুব-একটা থাকে কি?

অরিন্দমের ছবির মেইকিং বরাবর স্মার্ট। ছোট ছোট দৃশ্যরচনা করেন তিনি, এ এক বৈশিষ্ট্য। সুন্দর সম্পাদনা। বাংলা ছায়াছবির সংলাপ ইদানীং সর্বনামের ভারে ভারাক্রান্ত। একই কথার পুনরাবৃত্তি না হলে সংলাপকারের শান্তি নেই। কিন্তু এই ছবির ক্ষেত্রে তা হয়নি। ফলে বিরক্তি আসে না।

আরেকটা বড় কৃতিত্ব ছবির অভিনেতাদের। কোয়েল মল্লিক মিতিনের চরিত্রটি মনে হয় যেন শরীরে বহন করে ফেলেছেন। ফলে এই তৃতীয় ছবিতে এসে তিনি এবং মিতিন যেন খাপে খাপ বসেছেন। মিতিনের ক্ষুরধার অবতার তিনি বেশ স্বচ্ছন্দে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন।



