সমাজ

একটি মসজিদ ও একটি কমিউনিটির স্বপ্ন

শেয়ার করুন:

—নতুন মসজিদ নির্মাণে ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার সংগ্রহ
—হবিগঞ্জ সোসাইটির ৩১ হাজার ডলারের অনুদান

ফিলাডেলফিয়া প্রতিনিধি : একটি মসজিদকে ঘিরে শুধু ইবাদতের স্থান নয়—একটি ঐক্যবদ্ধ, মানবিক ও ভবিষ্যৎমুখী কমিউনিটি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন ফিলাডেলফিয়ার মুসলিমরা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নতুন মসজিদ নির্মাণের তহবিল সংগ্রহে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টারে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশেষ ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন লাঞ্চ’ ও ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে সংগৃহীত অনুদানের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য ছিল যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ, কমিউনিটি ও এর বিভিন্ন কার্যক্রমে সময়, শ্রম, অর্থ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন—সেসব দাতা, সহযোগী, সমর্থক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মান জানানো। তবে দুপুরের এই আয়োজন একপর্যায়ে পরিণত হয় একটি বৃহত্তর কমিউনিটি ঐক্যের প্রতিচ্ছবিতে।

হবিগঞ্জ সোসাইটির ৩১ হাজার ডলারের নজির

ফান্ডরেইজিংয়ে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে হবিগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটি অব পেনসিলভেনিয়া। সংগঠনের সভাপতি কামরুল হাসান-এর নেতৃত্বে প্রায় ৩১ হাজার ডলারের একটি চেক নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টারের মসজিদ কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একটি জেলা-ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন তার নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য একটি কমিউনিটির ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে এমন বড় অঙ্কের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই অনুদান যেন একটি বার্তাই দিয়েছে—কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে পরিচয়, সংগঠন কিংবা সাংগঠনিক সীমারেখা বড় নয়; প্রয়োজন শুধু ভালো একটি উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা।

মসজিদ থেকে কমিউনিটি সেন্টার

বক্তারা বলেন, একটি মসজিদ কেবল নামাজ আদায়ের স্থান নয়। প্রবাসে এটি হয়ে উঠতে পারে মানুষের মিলনস্থল, শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্র, নতুন প্রজন্মের পরিচয় ও মূল্যবোধ ধরে রাখার জায়গা এবং সামাজিক সহযোগিতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।

নতুন মসজিদ নির্মাণ তাই শুধু একটি ভবন নির্মাণের প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি প্রজন্মের স্বপ্ন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান রেখে যাওয়ার প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও খতিব আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ, নর্থ পেন মসজিদের ইমাম শায়খ মোহাম্মদ মতিউর রহমান (মাহদি), সিরাতুল জান্নাহ সেন্টারের প্রধান মাওলানা আবু রাশেদ এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি মাসুকুল ইসলাম খান বক্তব্য দেন।

তাঁরা নতুন মসজিদ নির্মাণে সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও কার্যকর ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসর তৈরি করতে কমিউনিটির সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

একটি কালেমা, অনুষ্ঠানে নতুন আবেগ

ফান্ডরেইজিংয়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ঘটে যায় এক আবেগঘন ঘটনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক ব্যক্তি কালেমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মুহূর্তটি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। উপস্থিত মুসল্লিরা তাঁকে স্বাগত জানান এবং তাঁর নতুন জীবনের জন্য দোয়া করেন।

একদিকে নতুন মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন, অন্যদিকে একজন মানুষের নতুন বিশ্বাসের পথে যাত্রা—দুটি ঘটনাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের কাছে দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলে।

দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টার মসজিদ কমিটির সভাপতি মাসুকুল ইসলাম খান দাতা, সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবক, মুসল্লি ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের বড় শক্তি শুধু তার ভবন বা অর্থনৈতিক সামর্থ্য নয়; বরং মানুষের ভালোবাসা, সময়, শ্রম ও সম্মিলিত সহযোগিতাই তার প্রকৃত শক্তি।

রোববারের এই আয়োজন যেন সেই শক্তিরই প্রতিফলন—যেখানে একজনের অনুদান আরেকজনের শ্রমের সঙ্গে মিলেছে, একটি সংগঠনের সহযোগিতা অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়েছে। আর সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ নিচ্ছে একটি নতুন মসজিদকে ঘিরে ফিলাডেলফিয়ার মুসলিম কমিউনিটির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

কামরুল হাসান-এর নেতৃত্বে হবিগঞ্জ সোসাইটির ৩১ হাজার ডলারের অনুদান এবং অনুষ্ঠানে ঘোষিত প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের তহবিল সেই সম্মিলিত স্বপ্নের পথচলায় নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *