অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়াল
শেয়ার করুন:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার দেশটিতে ডিজেলের জাতীয় গড় মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ দশমিক ০৬ ডলার, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫ দশমিক ৮৫ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৭১ ডলার।

ডিজেলের দাম বাড়ায় দৈনন্দিন পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের খরচও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যবাহী ট্রাক, ডেলিভারি নেটওয়ার্ক, ট্রেন ও কৃষি যন্ত্রপাতির বড় অংশ ডিজেলনির্ভর। এরই মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইন অর্ডার ও ডাকযোগে পাঠানো পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপ করে বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়েছে।

দাম বাড়ার প্রভাব সবচেয়ে দ্রুত পড়তে পারে পচনশীল খাদ্যপণ্যে। মাংস, সামুদ্রিক খাবার, ফল ও সবজি দ্রুত পরিবহন এবং নিয়মিত মজুতের প্রয়োজন হয়। এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতেও ডিজেলচালিত কৃষিযন্ত্র, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহৃত হয়। ফলে জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে মুদি পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রোলের গড় দামও প্রায় ৪ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে। এক বছর আগের তুলনায় ডিজেলের দাম ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার আগে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৭৬ ডলার। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডিজেলের দামও বাড়তে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল—দুটির দামই কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। সৌদি আরবে হুথি হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির তেল উৎপাদন গত মাসে তিন দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার পরিশোধনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ সংকটের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুক্ত হয়েছে।

খাদ্যপণ্যের মোট ব্যয়ের প্রায় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি খরচ হতে পারে। সরবরাহ চেইনে বিদ্যমান পরিবহন চুক্তি ও খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফার কারণে শুরুতে বাড়তি ব্যয়ের কিছু অংশ সামলে নেওয়া সম্ভব হলেও চুক্তি নবায়ন এবং জ্বালানি সারচার্জ কার্যকর হলে সেই ব্যয় ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে।

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক মুদি পণ্যের দাম এক বছর আগের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে সামুদ্রিক খাবারের দাম ৭ শতাংশ এবং তাজা ফলের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে এসব মূল্যবৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি ছাড়াও চাহিদা, রোগের প্রাদুর্ভাব ও অন্যান্য কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিজেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পোশাক, প্রসাধনী ও আসবাবসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে। ডিজেলচালিত বাস ও ট্রেন এবং জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবহৃত জেনারেটরও এতে প্রভাবিত হতে পারে। আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা বেশি হওয়ায় সেখানে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরতে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদও সময় লাগতে পারে। সরবরাহ সংকট, নিরাপত্তা ও পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে তেলের বাজার শিগগির স্থিতিশীল না হয়ে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *