সমাজ

৯/১১-এর ২৫ বছর: বিভক্ত আমেরিকায় স্মরণ ও শোক

৯/১১-এর ২৫ বছর: বিভক্ত আমেরিকায় স্মরণ ও শোক
শেয়ার করুন:

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী স্মরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা, স্বজন ও বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের স্মরণ এবং হামলার পর দেশটির দীর্ঘ পরিবর্তনের মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে অনুষ্ঠান। তবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর অর্থ ও উত্তরাধিকার নিয়েও নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

সেদিন আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীরা চারটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ছিনতাই করে। দুটি উড়োজাহাজ নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয়টি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। চতুর্থ উড়োজাহাজটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। হামলায় অন্তত ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা অনুযায়ী, ৯/১১-পরবর্তী আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে আরও প্রায় ৭ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারান। ধ্বংসস্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধ্বংসাবশেষের কারণে আরও হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হন এবং অনেকে পরে মারা যান।

নিউইয়র্ক সিটিতে লোয়ার ম্যানহাটনের ৯/১১ মেমোরিয়ালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন স্টেশনেও প্রহর ও স্মরণ আয়োজন হবে। প্রথম প্রতিক্রিয়াকারী ও নিহতদের সম্মানে নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কিজ ও নিউইয়র্ক মেটসের মধ্যে একটি বিশেষ বেসবল ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।

পেন্টাগনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বার্ষিকী স্মরণ করবেন এবং সেখানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পেনসিলভানিয়ার গ্রামীণ এলাকায় ফ্লাইট ৯৩ বিধ্বস্ত হওয়ার স্থানেও স্মরণসভা হবে। যাত্রীদের প্রতিরোধের কারণে উড়োজাহাজটি ওয়াশিংটন ডিসিতে হামলার পরিকল্পিত লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

নিউইয়র্কের ন্যাশনাল সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে ‘ইন দেয়ার অনার: ২৫ ইয়ার্স অব ৯/১১-ইনস্পায়ার্ড সার্ভিস’ নামে নতুন প্রদর্শনী চালু হয়েছে। হামলার পর যারা জনসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছেন, তাদের সম্মান জানানো হচ্ছে এতে। জাদুঘরটির পরিচালক এলিজাবেথ হিলম্যান বলেন, ভয়াবহ ক্ষতির পর সহমর্মিতা ও সাহসের সঙ্গে মানুষের সেবায় এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামো এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে দেশের ধারণা বদলে দেয়। তবে এর প্রভাব ও উত্তরাধিকার নিয়ে প্রশ্নও রয়ে গেছে। নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা সম্প্রতি ৯/১১-সংশ্লিষ্ট বায়ুমানের নথির একটি সংগ্রহ উন্মুক্ত করেছেন, যেগুলো আগের প্রশাসনগুলোর সময়ে জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে কাজ করা কর্মী জন স্টুয়ার্ট এ তথ্য প্রকাশে দীর্ঘ বিলম্বের সমালোচনা করেন।

হামলার সময় নিউইয়র্কের গভর্নর থাকা জর্জ পাটাকি বলেন, দুর্যোগের পর নিউইয়র্ক সিটির ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে তিনি গর্বিত। তবে তাঁর মতে, ৯/১১-এর পর আমেরিকান সমাজে যে ঐক্যের অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ তা দুর্বল করেছে। সাবেক ন্যাশনাল গার্ড চ্যাপলেইন এরিক ওলসেনও দেশের বর্তমান বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বার্ষিকী পালনের আগে নিউইয়র্কের মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিকে অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়াকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। পাটাকি ও সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানি তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানান। ডেমোক্র্যাটরা এর সমালোচনা করেন। মামদানি জানান, তিনি লোয়ার ম্যানহাটনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন এবং ৯/১১-তে প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *