সংবাদ

পৃথিবীর কক্ষপথে মার্কিন অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার এয়ার ফোর্স সচিবের

পৃথিবীর কক্ষপথে মার্কিন অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার এয়ার ফোর্স সচিবের
শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ফোর্স সচিব ট্রয় মেইঙ্ক বলেছেন, পৃথিবীর কক্ষপথে দেশটির অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে। মহাকাশে অস্ত্রায়ন নিয়ে কয়েক দশকের বিতর্কের পর এটি এ ধরনের সক্ষমতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক বলেন, হুমকির ধরন পরিবর্তিত হলেও তা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে নিশ্চিত করছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন কক্ষপথে মোতায়েন এমন ‘স্পেস কন্ট্রোল’ অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুর হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম।

মেইঙ্কের এই বক্তব্যকে চীন ও রাশিয়ার প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহাকাশ বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, এসব সক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ধরনের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কমব্যাট্যান্ট কমান্ডগুলো।

মুখপাত্র আরও বলেন, রাশিয়া ও চীনের অস্ত্র পরীক্ষা এবং সেগুলোকে কার্যকর সামরিক ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ২০০৭ সাল থেকে সতর্ক করে আসছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডের কারণে মহাকাশ যে এখন যুদ্ধের ক্ষেত্র—এটি আর প্রশ্নের বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খোলামেলা যোগাযোগ প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করতে পারে, প্রতিপক্ষের ভুল হিসাবের ঝুঁকি কমাতে পারে এবং অন্যান্য সামরিক শাখার পাশাপাশি মহাকাশ কার্যক্রমকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।

জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে পৃথিবীর কক্ষপথ ভবিষ্যতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সামরিক বাহিনীর জিপিএস, যোগাযোগ, গোয়েন্দা তথ্য এবং লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা স্যাটেলাইট অচল বা ধ্বংস করার চেষ্টা হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। এ ধরনের হামলা বেসামরিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ব্যবস্থাকেও ব্যাহত করতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করেছে এবং সেগুলো কতদিন ধরে সেখানে রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। মহাকাশে ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে সাইবার অস্ত্র, লেজার এবং অন্য স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটানোর জন্য তৈরি স্যাটেলাইট থাকতে পারে।

মহাকাশে সরাসরি সংঘাত হলে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ধ্বংস হওয়া স্যাটেলাইট থেকে অত্যন্ত উচ্চগতির ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে। এতে কক্ষপথে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়বে এবং নিরাপদে মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ও পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *