রাজনীতি

নিউইয়র্কে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক ভাসানী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

শেয়ার করুন:
  • ভাসানীর আদর্শ, গণমানুষের অধিকার ও ঐতিহাসিক সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন, আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে স্মরণ করে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক ভাসানী সম্মেলন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সম্মেলনে বিপুলসংখ্যক ভাসানীপ্রেমী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। প্রধান বরেণ্য আলোচক (Guest of Honor) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সরকারি নথিতে তাঁকে মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়⁠)

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক মুখ্য সচিব এম. সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং ভারত থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সৌমিত্র দস্তিদার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলী ইমাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মনিরুদ্দীন নাসের।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ হোসেন খান, খন্দকার ফরহাদ, কিউ জামান, গিয়াস আহমেদ, কাজী আজম, এস এম ফেরদৌস, সাংবাদিক সাঈদ তারেক, অধ্যক্ষ আজিজুল হক, চন্দু ভাই, ফিরোজ আহমেদ, নাজমুল আলম শ্যামল, ডা. নার্গিস রহমান, তাহমিনা রহমান, মিসেস আলী ইমাম, এ কে আজাদ, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান, আব্দুর রহমান, সাহাব উদ্দিন, নূর আমিন, তানভীর করিম, মনির আহমেদ ও মনিরুল ইসলামসহ কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নবযুগ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাগর।

আলোচনায় বক্তারা মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। কৃষক-শ্রমিক ও নিম্নবর্গের মানুষের অধিকার, স্বায়ত্তশাসনের দাবি, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা আলোচনায় উঠে আসে।

গণমানুষের নেতা হিসেবে ভাসানী

১৯৪৯ সালে পূর্ব বাংলায় আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় মওলানা ভাসানী সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের রাজনীতি এবং পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবিসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। (Teachers.gov.bd⁠)

বিশেষ করে ১৯৭৬ সালের ফারাক্কা লংমার্চ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। ওই বছরের ১৬ মে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট অভিমুখে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে লংমার্চের নেতৃত্ব দেন তিনি। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেয়। (Prothom Alo⁠)

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ক্ষমতার চেয়ে সাধারণ মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া। কৃষক, শ্রমিক ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা তাঁকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালেও গণমানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয় স্বার্থ ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর বক্তব্য ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা আজও অব্যাহত রয়েছে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া ভাসানীপ্রেমীরা তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আরও গবেষণা, তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরা এবং তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিউইয়র্কের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *