কয়েক বছর আগে একদিন আমার বাসায় এসেছিলেন দেশের জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হক ও তাঁর সহধর্মিণী মেরিনা ইয়াসমিন। কয়েক ঘণ্টা গল্প হয়েছিল। কিন্তু তখন জানতাম না, তাঁদের একটি মেয়ে আছে। আর সেই মেয়েটি একদিন এমন একটি অর্জনের সামনে দাঁড়াবে। মেয়েটির নাম পদ্য পারমিতা। সংক্ষেপে পি. পারমিতা। বাংলাদেশের মেয়ে। এখন থাকেন আমেরিকায়। সেখানেই লিখেছেন তাঁর প্রথম উপন্যাস।
একজন লেখকের সন্তান লেখালেখি করবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু প্রথম বইই যখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়, তখন সেটি শুধু একটি পরিবারের আনন্দ থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে আমাদেরও গর্বের বিষয়।
এই বছর ৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হচ্ছে পি. পারমিতার প্রথম উপন্যাস ‘অ্যাপেটাইট’। এটি প্রকাশ করছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের ডায়াল প্রেস। উত্তর আমেরিকাজুড়ে বইটি পাঠকের হাতে পৌঁছাবে। প্রকাশের আগেই অসংখ্য পাঠক বইটির অগ্রিম অর্ডার দিয়েছেন। সমালোচকদের কাছ থেকেও বইটি প্রশংসা পাচ্ছে। নতুন লেখকদের বহুল প্রতীক্ষিত বইয়ের তালিকাতেও স্থান করে নিয়েছে।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র জরিনা। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যাওয়া এক নারী। একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশি খাবার রান্না করেন। এই গল্প কত মানুষের জীবনের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠবে, তা সময়ই বলে দেবে। আমি খুব ভালো ইংরেজি জানি না। তবু বইটি সংগ্রহ করার চেষ্টা করব। কারণ এটি শুধু একটি উপন্যাস নয়। এটি একজন বাঙালি মেয়ের স্বপ্নপূরণের গল্প। এটি আমাদের সম্ভাবনার গল্প। আমার যেসব বন্ধু আমেরিকায়, বিশেষ করে নিউইয়র্কে আছেন, তাঁদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে। বইটি সংগ্রহ করুন। লেখককে উৎসাহ দিন। তাঁর পাশে দাঁড়ান। আমাদের নতুন প্রজন্মের লেখকদের এগিয়ে যেতে এমন সমর্থন খুবই দরকার।
আগামী ৬ আগস্ট নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী স্ট্র্যান্ড বুকস্টোরে বইটির প্রকাশনা ও লেখকের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। নিঃসন্দেহে এটি একজন বাংলাদেশি লেখকের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত। পি. পারমিতার জন্য অনেক শুভকামনা। শুভকামনা তাঁর বাবা আনিসুল হক ও মা মেরিনা ইয়াসমিনের জন্যও। সন্তানের সাফল্যের আনন্দের সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনো আনন্দের তুলনা হয় না। আমরা চাই, এই অর্জন আরও অনেক তরুণ বাঙালি লেখককে বড় স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাক। একজনের সাফল্য অনেকের পথ খুলে দেয়। পি. পারমিতার এই যাত্রাও তেমনই নতুন এক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিক।

আবদুল হামিদ মাহবুব



