বিজ্ঞান

তনিমা তাসনিম অনন্যা : বাংলাদেশি জ্যোতির্পদার্থবিদ

শেয়ার করুন:

—পৃথিবী বদলে দিতে পারে তনিমার গবেষণা
—বিশ্বের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীদের তালিকায় বাংলাদেশি জ্যোতির্পদার্থবিদ তনিমা তাসনিম অনন্যা

বিশ্ববিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে যাঁদের হাত ধরে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে, তাঁদেরই একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিদ ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা। যুক্তরাষ্ট্রের ১৮০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞান সাময়িকী Scientific American তাদের বিশেষ “The Future of Science” সংখ্যায় বিশ্বের সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানীদের তালিকায় তাঁকে স্থান দিয়েছে।

ঢাকার বাড্ডায় বেড়ে ওঠা তনিমার মহাকাশের প্রতি ভালোবাসার শুরু শৈশবেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকার আকাশে অসংখ্য তারার দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে জন্ম নেয় মহাবিশ্বকে জানার অদম্য কৌতূহল। সেই কৌতূহলই আজ তাঁকে নিয়ে গেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্যোতির্পদার্থবিদদের কাতারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও গবেষক হিসেবে কর্মরত তনিমা মূলত সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল এবং অ্যাকটিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস (AGN) নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম সাফল্য হলো দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত (ইনফ্রারেড) এবং উচ্চশক্তির এক্স-রে তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করে ধূলিকণা ও গ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিশালাকার ব্ল্যাক হোল শনাক্ত করার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন। বিজ্ঞানীদের মতে, এই গবেষণা মহাবিশ্বে গ্যালাক্সির জন্ম, বিবর্তন এবং ব্ল্যাক হোলের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তনিমা যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিন মাওর কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ডার্টমাউথ কলেজ ও ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোতে পোস্টডক্টরাল গবেষণা শেষে ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যোগ দেন। এর আগে তিনি নাসা (NASA) ও সার্ন (CERN)-এও গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন।

পারিবারিকভাবেও তনিমা শিক্ষানুরাগী পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা ডা. এম. এ. কাইয়ুম এবং মা ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও মহাকাশ সম্পর্কে তাঁর আগ্রহকে উৎসাহ দিয়েছেন। তনিমা একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মায়ের মুখে গ্রহ-নক্ষত্রের গল্প শুনেই বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।

এর আগেও ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের Science News সাময়িকীর “SN 10: Scientists to Watch” তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছিলেন তনিমা। সর্বশেষ Scientific American-এর স্বীকৃতি তাঁর গবেষণার বৈশ্বিক গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

বাংলাদেশি এই বিজ্ঞানীর সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনের অভিযাত্রায় ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা আজ বাংলাদেশের গর্ব, আর তাঁর গবেষণা ভবিষ্যতে মানবজাতির মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারণাকেই নতুনভাবে বদলে দিতে পারে।


আশরাফুল ইসলাম আরিফ 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *