ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স নীতিমালা-২০২৬ : বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ, বিদেশি প্ল্যাটফর্ম আসছে নিয়ন্ত্রণে
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা-২০২৬। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রণীত এই নীতিমালার মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও আসবে সরকারি নিবন্ধন ও জবাবদিহির আওতায়।
নীতিমালার মূল লক্ষ্য শুধু অনলাইন বাণিজ্যের সম্প্রসারণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা। বর্তমানে দেশের ই-কমার্স বাজার প্রায় ৬০০ থেকে ৭৪০ কোটি মার্কিন ডলারের। এই বিশাল সম্ভাবনাময় খাত এতদিন বিচ্ছিন্ন আইন ও নির্দেশনার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক লেনদেন, কর ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা সুরক্ষায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল।
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসগুলোকে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে হলে ডিজিটাল বিজনেস আইডি (ডিবিআইডি) নিতে হবে। এতে কর আদায়, গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং অনলাইন লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে।
নীতিমালায় মেধাস্বত্ব সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নকল পণ্য, পাইরেটেড সফটওয়্যার, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন এবং অনলাইন জুয়া বা অবৈধ ডিজিটাল লেনদেন বন্ধে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের বড় সুযোগ তৈরি করবে। তবে অর্থপাচার, ভুয়া প্রতিষ্ঠান এবং সাইবার প্রতারণা ঠেকাতে শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে নীতিমালার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সাবেক অর্থ ও বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এই নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক বাস্তবায়ন হলে ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা-২০২৬ বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতকে শুধু দেশীয় বাজারে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে।
ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা



