লোকমহাজন জানে না যা
আমি জানি তুমি তাহা
হাওর বাঁধা তোমার কোমরে
তুমি কৃষকের ছাও সোনা রে
ভাগ্যরেখা ধরে আগাও
জালারও কাতারে
রুয়ে যাও গো তোমার জীবন
হাওরের মাটিতে
তুমি ভাটির নারী ভাটির মাটি
করচের ডালে তোমার চাহনি
ধানে ধানে বুনো জীবন
একফসলির মাঠে
বৈঠা হাতে নৌকা নিয়া
যাইও উজানের ঘাটে
বাজারসদাই শেষে
দেখা দিও আলতা কিনার ছলে
আমি কৃষি আর্তনাদ, দয়াল দেইখো আমারে
আখড়া, মন্দির, মাজার ঘুরে
আছি এখন হাওরের বুকে—
বাতাস আমায় উড়াইয়া নেয়
দকনাইলের ধানের মাঠে।
ধানের গোছায় জীবন আমার
লকলক লকলক করে—
বান-তুফানে যেন না ভাঙি
দয়াল দেইখো আমারে।
আমি কৃষি আর্তনাদ—
দয়াল চোখ খুলে দেইখো আমারে।
মন আমার নাইওর নাইওর করে
মন আমার নাইওর নাইওর করে
দেখি না মা-বাবার মুখ
অনেকদিন হলো এই অসুখ
ভাইজানের কবরের মাটিটা
ছুঁইয়া দেখি না কতদিন
দেই না পানি কতদিন
আমার জবাগাছটাতে
মোরগের ছাওগুলো হয়তো
চেও চেও করে আমারে ডাকে
মন আমার বাবার কুঁড়েঘরে
আর আমি স্বামীর ঘরে
উদাস মনে প্যাচ লাইগা যায়
সংসারের নানা কাজে
শাশুড়িমার কথা একটাও
মাটিতে না পড়ে
টিনের চালে ইলের গাইয়ে
ঝনঝনাইয়া বাজে
মন আমার নাইওর নাইওর করে




