যুগ পালটায়, প্রযুক্তি পালটায়, মানবজীবনের ছন্দ বদলায়। কিন্তু বই? এই জিনিসটা থেকে যায় এক ধীর জ্ঞানচর্চার প্রতীক হয়ে। এই দ্রুততার যুগে বই পড়া যেন ক্রমশই এক কঠিন অভ্যাস হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির জগৎ যেভাবে মানুষের মন-মননকে দখলে নিচ্ছে, সেখানে গভীর ধৈর্যে পঠনপাঠনের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে। আগেকার দিনে মানুষ বই পড়তো অবসরকে সঙ্গী করে। কিন্তু, এখন? অবসরে-অবকাশে ঢুকে পড়েছে নানান বিকল্প, স্ক্রিনের ঝলকানি। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের এক বৃহৎ অংশ বইপত্র পড়ার পূর্ণাঙ্গ অভ্যাসের বাইরেই বেড়ে উঠছে। তাদের মধ্যে দ্রুত গতির তথ্য, ক্ষুদ্র, খণ্ডিত জ্ঞানের সংস্কৃতি গভীর পাঠের জায়গা দখল করে নিচ্ছে।
মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের অবদান অপরিসীম। প্রাচীন যুগে জ্ঞান ছিল মৌখিক; স্মৃতির সীমায় বাঁধা। বই এসে সেই জ্ঞানকে স্থায়ী করল। চিকিৎসা, বিজ্ঞান, গণিত, সাহিত্য, দর্শন-সব শাখার ভিত্তি রচিত হল বইয়ের পাতায়। বই শুধু তথ্য সংরক্ষণ করেনি, বরং প্রতিটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, চিন্তা ও স্বপ্নকে ধরে রেখেছে। এক ভাষার ভাব অনুবাদ হয়েছে অন্য ভাষায়; এক জাতিগোষ্ঠীর চিন্তা পৌঁছেছে অন্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে। সৃষ্টি হয়েছে বৈশ্বিক বোধ।
রেনেসাঁ থেকে বৈজ্ঞানিক বিপ্লব, মানবাধিকার থেকে সাহিত্যিক আন্দোলন— সর্বত্র বই হয়ে থেকেছে মৌন সহচর। বই তো কেবল জানার পিপাসা মেটায় না, অনুভব ও কল্পনা করতে শেখায়, ভাষার সৌন্দর্যকে বুঝতে সাহায্য করে। সাহিত্য, উপন্যাস, কবিতা মানুষের হৃদয় নরম করে, মানবতা কিংবা সহানুভূতির জগৎকে প্রসারিত করে।
‘একটি বই পকেটে বহন করা একটি বাগানকে বহন করার মতো।’— এমন-একটি রূপকধর্মী কথা উদ্ধৃত হতে দেখা যায়। জনি না, এই কথাটির আদি উৎস কোন ভাষায়। একটি বাগানের সঙ্গে বইয়ের তুলনায় মনে পুলক জাগে। প্রথিতযশা লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসের কাছে যেন জ্ঞান ও কল্পনার অফুরন্ত সম্ভার লাইব্রেরি ছিল অনন্ত সুখের ঠিকানা; তাই বলতে পেরেছিলেন— ‘I have always imagined that Paradise will be kind of Library.’ (আমি সবসময় ভেবেছি, স্বর্গ হয়তো একটা লাইব্রেরির মতোই হবে)। বোর্হেস নিজেও লাইব্রেরিতে কিউরেটর হিশেবে কাজ করেছেন বহু বছর। জীবদ্দশায় দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরেও বইয়ের প্রতি তাঁর নিবেদন অটুট ছিল।
লাইব্রেরি মানে বই; বইয়ের সংগ্রহ। বাঙালি লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘লাইব্রেরি’ শিরোনামক প্রবন্ধের শুরুতেই লিখেছেন, ‘মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারিত যে, সে ঘুমাইয়া-পড়া শিশুটির মতো চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই লাইব্রেরির তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে কাগজের কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। ইহারা সহসা যদি বিদ্রোহী হইয়া উঠে, নিস্তব্ধতা ভাঙিয়া ফেলে, অক্ষরের বেড়া দগ্ধ করিয়া একেবারে বাহির হইয়া আসে! হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন বরফের মধ্যে যেমন কত কত বন্যা বাধাঁ আছে, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে মানবহৃদয়ের বন্যাকে বাঁধিয়া রাখিয়াছে!’
দূর-অতীত থেকে আজ অবধি— এই বাণিজ্য, বিনোদন, প্রযুক্তি/দ্রুতগতির যুগে লাইব্রেরি/বই সভ্যতার উজ্জ্বল মেধাভান্ডার হলেও (পৃথিবীর নানান অঞ্চলে ব্যক্তিপর্যায়ে বইপ্রীতির চমৎকার উদাহরণ থাকলেও) সামগ্রিক দিক থেকে বাঙালিসমাজে বইপ্রীতি/বই পড়ার প্রবণতা কি সুখকর? আমাদের অভিজ্ঞতা কী বলে? আলাওল, চণ্ডীদাস, সৈয়দ সুলতান, বঙ্কিম, বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎচন্দ্র, জীবনানন্দ সহ কত চিন্তক-কবি-সাহিত্যিকের কীর্তি-রচনাবলি যুগে যুগে বাঙালির আত্মচেনায় অনুরণন তুললেও আমরা একবাক্যে বলতে পারি না— এই সমাজে পাঠাভ্যাসের ভিতটা অতীতে খুব শক্ত অবস্থায় ছিল, বলতে পারি না— বর্তমানে শক্ত অবস্থায় আছে। আজকের প্রজন্মের বড়ো অংশের মধ্যে গভীর পাঠের ধৈর্য কমছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। দ্রুতগতির নানান ভবিষ্যৎ ফাঁদে সারা দুনিয়ায় মানুষের বই পড়ার প্রবণতাই-বা কীরূপ হবে, তা স্রেফ অনুমানের উপর বলা দুষ্কর। তবে, এই সময়ে এমন বাঙালিও আছেন— যারা রীতিমতো বইপাগল। এই বইপাগল বাঙালি সংখ্যায় অল্প। কারও কারও কাছে হয়তো বই পড়া বেশ ঝামেলার কাজ; কারণ বই পড়তে একাগ্রতা লাগে, মাথা খাটাতে হয়, পড়ার সময় বাইরের অন্যসব চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হয়। বই পড়া অভ্যাসের ব্যাপার, যেটা শুরু করতে ধৈর্য আর ভালো লাগার দরকার হয়। বইয়ের প্রতি ভালো লাগা তৈরি হলে তা সময়ের সঙ্গে পড়ুয়ার জীবনে আনন্দের অংশ না-হয়ে পারে না।
আজকাল অজস্র মানুষের হাতে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাব, কিন্ডল ইত্যাদি আছে। ই-বইয়ের চোখ-ঝলসানো পর্দায় শব্দেরা দ্রুত নেমে আসে। অক্ষর গুছিয়ে সাজিয়ে পাঠকের সামনে হাজির হয়। ক্লিকে ক্লিকে হাজার হাজার বইয়ের দেখা মেলে। কাগজি গ্রন্থাগারের দ্বারস্থ না-হয়েও যান্ত্রিক আলো জ্বলজ্বলে স্ক্রিনে বইসঙ্গ লাভ/বই পড়া সম্ভব হয়। চোখে না-দেখে শ্রবণবইয়ের সাহায্যে বইয়ের বার্তায় অবগাহন করা যায়। ভবিষতেও বই পড়া হবে মিশ্রতর ধারায়। কিন্তু, বই পড়া কেবল শখের ব্যাপর নয়, বই কেবল তথ্যের আধার নয়, বই পড়া আত্মবিকাশের নীরব সাধনা; বই ধৈর্যসহকারে নিজেকে গড়ার শিল্প।
প্রকৃত পড়ুয়ার হাতে যখন একটি ভালো বই আসে, তখন নিঃশব্দে খুলে যায় এক রহস্যময় দরোজা। পাতায় আঁকা অক্ষরগুলো ধীরে ধীরে জীবন্ত হয়ে ওঠে; ফিসফিসিয়ে বলে যায় গল্প, স্মৃতি, স্বপ্ন কিংবা কোনও অলীক ভবিষ্যতের সংকেত। প্রসারিত হয় এক অজানা অরণ্য-যেখানে বাস্তবতা আর কল্পনার সীমা মুছে যায় এক অদ্ভুত মাধুর্যে। কোনও কোনও বইয়ের এক-একটি বাক্য যেন এক-একটি গহন বৃক্ষ হয়ে ওঠে। শব্দের ডালে ডালে দুলে থাকে সময়ের কত ধূলিকণা, কত গোপন কণ্ঠস্বর। আর সব বই-ই তো নিছক গল্প বলে না; যেন আয়নার মতো পড়ুয়ার মুখ তুলে ধরে, দেখিয়ে দেয় তার অনাহুত ছায়া। কখনও কখনও পড়ুয়া আবিষ্কার করেন প্রয়াত লেখকের চোখে নিজেরই দৃষ্টি, বিপ্লবীর হৃদয়ে নিজেরই দ্বিধা, কিংবা কোনও পরিত্যক্ত চরিত্রের দীর্ঘশ্বাসে নিজেরই নিঃসঙ্গতা। পাঠের গল্প এগিয়ে চলে। কখনও কখনও, যন্ত্রণাই কোনও কোনও পাঠে মধুর আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
পাঠক বইয়ের গভীরে প্রবেশ করেন, আর রূপ বদলে যেতে থাকে; শ্রোতা/পাঠক থেকে হয়ে ওঠেন দর্শক; শেষে নিজেই এক স্রষ্টা। লেখক-রচিত বাক্যের ভিতর প্রবেশ করে পাঠক নির্মাণ করেন নিজস্ব অর্থ। লেখকের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, বেদনা, ভালোবাসা মিশে পাঠকের মনে নতুন অর্থের জন্ম হয়। এভাবেই এক-একটি পাঠ হয়ে ওঠে একান্ত ব্যক্তিগত সৃষ্টি। শব্দের ফাঁকে জমে থাকা নীরবতা থেকে নতুন পাঠের জন্ম হয়; এবং এই নীরবতা থেকেই পাঠকের ভিতরে জেগে ওঠেন কোনও মৌন কবি-যে কখনও কলম না-ছুঁয়েও তার অন্তরে লিখে চলেন নতুন কাব্য।
অতল অনন্তের পাঠে অনুভব করা যায়— কোনও শব্দই সম্পূর্ণ নয়। সব বাক্য ভঙ্গুর, সব অর্থ অসমাপ্ত। শব্দেরা তখন নিছক কাহিনি নয়, তারা হয়ে ওঠে ধ্বনি, প্রতিধ্বনি, অদৃশ্য রক্তস্রোত। পাঠকের শিরায় বয়ে যায় ভাষার রক্ত। বইয়ের পৃষ্ঠা মিশে যায় চেতনার গায়ে। লেখক ও পাঠকের মাঝখানে বিলীন হয়ে যায় প্রথাগত সীমারেখা। পাঠক টের পান-যা লেখা হয়নি, তার মাঝেই নিহিত থাকে পাঠের সবচেয়ে গভীর অর্থ। অলিখিতই হয়ে ওঠে জাগ্রত বাক্য। অবশেষে আসে এক নীরব উচ্চতা— যেখানে শব্দ ফুরিয়ে যায়, অর্থ ঝরে পড়ে, কেবল অনুভবের আলো জেগে থাকে। পাঠক বুঝে নেন— পাঠের চূড়ান্ত অর্থ কোনও উত্তর পাওয়া নয়, বরং উত্তরহীনতার সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করা। টের পান, প্রতিটি বই আসলে একটিই বই; মহাকালের প্রান্তরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক অসীম, অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি।
বই মানুষকে অন্যের চোখে দেখার ক্ষমতা দেয়। বইপড়া এক ধ্যানমগ্ন সাধনা, যার শুরু আছে, অথচ শেষ নেই। বইপড়া মানে আত্মার এক দীর্ঘ অবগাহন; যেখানে শব্দের জলরাশি ভাসিয়ে নিয়ে যায় ক্লান্ত হৃদয়কে। কখনও সে পায় প্রেমের অমøান গন্ধ, কখনও বিষাদের হিমেল পরশ। কখনও ইতিহাসের ধূলিঝড়, কখনও ভবিষ্যতের শীতল ঝরনা।
কথটা সত্য যে, বই সংগ্রহ মানেই পড়া নয়; পড়া মানেই জানা নয়; জানা মানেই বোঝা নয়। মানুষকে জীবনের অর্থ খুঁজতে কিংবা নিজেকে জানতে বই অনন্য-কিছু। বই মানুষের সীমিত জীবনে সীমাবদ্ধতা ভেঙে অজানা মানুষের গল্প, সুখ-দঃখ, ভিন্ন ভিন্ন সময়, ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতা, ভিন্ন ভাবনায় প্রবেশ করাতে পারে। সেই শক্তিটা বইয়ের আছে।
যারা বইকে গুরুত্ব দেন না, তারা হয়তো ভাবেন-চারপাশে অসংখ্য শব্দে তথ্যের উথালপাথাল ঢেউ, বইয়ের কী প্রয়োজন? কিন্তু বই তো কেবল তথ্যের পাত্র নয়; বই এক ধীর জিজ্ঞাসা, এক গভীর আলাপন। বই না-পড়া মানে নিজের চিন্তার দরোজাগুলো ক্রমশ বন্ধ করে ফেলা। বইহীনতার বাইরে, দ্রুততার দুনিয়ায় অল্প জেনেও সব জানার অভিনয় করা যায়, কিন্তু অনেক বিষয়েই বোঝার প্রকৃত বুনন তৈরি হয় না। অনুভবের রেখাগুলো শুকিয়ে যায়। বই না-পড়া মানে এক গভীর সৌন্দর্য ও কোমলতা থেকে দূরে থাকা; যা টের পাওয়া যায় না তাড়াতাড়ি, কিন্তু ভিতরে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক নির্বাক শূন্যতা।
বই এক আলোক-অন্বেষণ। ভালো বইগুলো মনের অন্ধকারে আলো ফেলে। শব্দের আলো। উপলব্ধির আলো। বোধের আলো। বই প্রশ্ন তোলে, উত্তর দেয় না, আবার দেয়ও। প্রশ্নের ভিতরে আলো জ্বলে। প্রশ্নের মধ্যে অর্থের ইশারাও লুকিয়ে থাকে। বইয়ের আলো বাহ্যিক কিছু নয়। বই শেখায়, অন্ধকারেও চলার শক্তি-সাহস কীভাবে অর্জন করা যায়।
বই যে পড়ার জন্য, এই সহজ সত্যটিই কেউ কেউ ভুলে গিয়ে নাকি বই সংগ্রহ করেন কেবল ঘর সাজানোর জন্য, অতিথিদের দেখানোর জন্য, যে তারাও এক পরিমিত রুচির বাহক। এরকম মানুষও জগতে আছেন? তাদের কাছে বইয়ের মলাটের রং, সোনালি অক্ষর, তাকের মনোরম বিন্যাস, এসবই হয়তো মুখ্য। পড়া কিংবা নাড়াছোঁয়া হয়নি, এমন অসংখ্য পৃষ্ঠা থেকে যায় আড়ালে। না-খোলা না-পড়া বইয়ের পৃষ্ঠার অক্ষরও একদিন ক্লান্ত হয়ে যায়। কত অলংকৃত তাক থেকে না-পড়া বইগুলো চুপচাপ তাকায়; আর তার পাতাগুলো নীরবে ডাকতে থাকে সেই পাঠককে, যে সত্যিকার অর্থে কথা বলতে জানে; যে শব্দের ওপারে যেতে জানে। বই সংগ্রহ করে না-পড়ে কেবল বাহ্যিক অলংকার বানানো এক নীরব আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কী? ঘরে তাকভর্তি বই থাকলেই কি বোধের আলো জ্বলে? একটি বইয়ের আলো জ্বলে উঠতে পারে কেবল পাঠের নিঃশব্দ গভীরতায়, পাঠকের মনের গহিনে। সংগ্রহে থাকা সব বই-ই পড়ে ফেলতে হবে, তা আমরা বলতে পারি না। অনেকের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে হাজার হাজার বই থাকতে পারে, সংগৃহীত সব বই পড়ার অবকাশ না-ও হতে পারে। তবে, বইপ্রেমীদের মধ্যে এমন-অনেকেই আছেন, যারা ভালো লাগা কিংবা অন্যকোনও কারণে এক বই একাধিকবারও পড়েন।
কথটা সত্য যে, বই সংগ্রহ মানেই পড়া নয়; পড়া মানেই জানা নয়; জানা মানেই বোঝা নয়। মানুষকে জীবনের অর্থ খুঁজতে কিংবা নিজেকে জানতে বই অনন্য-কিছু। বই মানুষের সীমিত জীবনে সীমাবদ্ধতা ভেঙে অজানা মানুষের গল্প, সুখ-দঃখ, ভিন্ন ভিন্ন সময়, ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতা, ভিন্ন ভাবনায় প্রবেশ করাতে পারে। সেই শক্তিটা বইয়ের আছে।
আমরা, বই পড়ব কি পড়ব না, এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায় শেষতক আমাদের। তবে, যাবতীয় বইকে কেবলই মুক্তির উপায় হিশেবে ভাবা যায় না; কারণ বই নিজে নিজে কোনও নৈতিক অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। সমাজে একজনের কাছে বই হতে পারে মুক্তি/কল্যাণের আশ্রয়, এবং অন্যজনের হাতে হয়ে উঠতে পারে শোষণের হাতিয়ার। এই জিনিসটা খোলা ছুরির মতো— একজন যা দিয়ে জীবনধারণের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে পারেন, আবার নিজের কিংবা অন্যের প্রাণনাশও করতে পারেন। তাই, অন্ধভাবে যাবতীয় বইকে আলোকদায়ী ভাববারও অবকাশ নেই।



