প্রযুক্তির খবর বিজ্ঞান

বিজ্ঞানিদের নাম না নিলেও বিজ্ঞান । কাজল রেখা

শেয়ার করুন:

বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই—শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। কিন্তু বিজ্ঞানের বই খুললেই দেখা যায়, নামের সারি। কে কোথায় কী লিখেছেন, কোন বই কবে বেরিয়েছে—এই তালিকাই যেন জ্ঞানের প্রমাণ। দু’শ শব্দে দশজনের নাম লিখে দিলে লেখক বড় হয়ে যান; পাঠক মুগ্ধ হন নামের ভারে।

কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। নাম উচ্চারণ না করলে কি বিজ্ঞান অনুপস্থিত হয়ে যায়?

আমি এতক্ষণ ধরে বিজ্ঞানের কোনো সূত্র বলিনি, কোনো আবিষ্কারের উল্লেখ করিনি। তবু কি আমরা বিজ্ঞানের বাইরে ছিলাম? এই মুহূর্তে যে শ্বাস নিচ্ছি, যে আলোয় পড়ছি, যে যন্ত্রে লিখছি—এসব কি নাম-নির্ভর?

বিজ্ঞান আসলে আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা যুক্তির নীরব উপস্থিতি। আমরা তাকে উচ্চারণ করি বা না করি, সে আমাদের ভিতরেই কাজ করে। নাম স্মরণে সম্মান আছে; কিন্তু ব্যবহারে দায়িত্ব।

বিজ্ঞান কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়; এটি পদ্ধতি, অনুসন্ধান, প্রশ্ন করার সাহস। নামগুলো ইতিহাসের চিহ্ন—কৃতজ্ঞতার স্মারক। কিন্তু জীবন চলে প্রয়োগে। আমরা অধিকাংশই জানি না কে প্রথম চাকা বানিয়েছিলেন, তবু চাকা ঘোরে; কে বিদ্যুৎকে বশ মানালেন তা না জেনেও বাতি জ্বলে।

তাই বিজ্ঞান নিয়ে লিখতে গেলে নাম নেওয়া শোভন—কারণ তা কৃতজ্ঞতা। কিন্তু বিজ্ঞান বোঝার জন্য নাম অপরিহার্য নয়; অপরিহার্য হলো বোধ।

বিজ্ঞান আসলে আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা যুক্তির নীরব উপস্থিতি। আমরা তাকে উচ্চারণ করি বা না করি, সে আমাদের ভিতরেই কাজ করে। নাম স্মরণে সম্মান আছে; কিন্তু ব্যবহারে দায়িত্ব।

বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যদি বিজ্ঞানের কোনো বাক্য না-ও বলা হয়, তবু বিজ্ঞান অনুপস্থিত হয় না—কারণ বিজ্ঞান কেবল তথ্য নয়, চিন্তার শৃঙ্খলা। আর সেই শৃঙ্খলাতেই মানুষ প্রতিদিন বেঁচে থাকে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *