রাজনীতি

জনশুমারিতে কিছু অভিবাসীকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

জনশুমারিতে কিছু অভিবাসীকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারিতে কিছু অ-নাগরিককে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জনসংখ্যার হিসাবে রাখা হবে। তবে অস্থায়ী বৈধ মর্যাদাধারী এবং নথিবিহীন অভিবাসীসহ অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারির হিসাব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়। এর ভিত্তিতে সরকারি সম্পদ বণ্টন এবং প্রতিনিধি পরিষদে আসন নির্ধারণ করা হয়। জনশুমারির তথ্য ফেডারেল সহায়তা বণ্টনের সূত্রেও ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ অর্থবছরে জনশুমারির তথ্য ব্যবহার করে ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল অর্থ বণ্টন করা হয়েছিল।

প্রস্তাবটিতে জনশুমারি প্রশ্নপত্রে জাতি ও জাতিগত পরিচয়সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন বাদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এসব শ্রেণির অর্থ, গুরুত্ব ও প্রভাব নিয়ে ‘যথেষ্ট সন্দেহ’ রয়েছে এবং এগুলোর ব্যবহার এখনো কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, জনমিতিক এসব প্রশ্নের যথাযথ ভূমিকা সেনসাস ব্যুরো পুনর্মূল্যায়ন করছে।

প্রশ্নের সংখ্যা কমানো হলে উত্তরদাতাদের ওপর চাপ কমবে, অংশগ্রহণের হার বাড়বে এবং জনশুমারি ব্যুরোর তথ্য যাচাইয়ের কাজ উন্নত হবে—এমন যুক্তিও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উত্তরদাতাদের কাছ থেকে সরাসরি আরও পূর্ণাঙ্গ জনসংখ্যার হিসাব পাওয়া যাবে এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আরও ন্যায্য হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০ বছর পর জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নথিবিহীন অভিবাসী এবং পর্যাপ্ত স্থায়ী আইনি মর্যাদা না থাকা অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের ‘প্রকৃত বাসিন্দা’ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। তাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পর্যাপ্ত সম্পর্ক ও আনুগত্যও নেই বলে এতে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিবর্তন হলে তা ঐতিহাসিক রীতির সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করবে। ১৭৯০ সালের জনশুমারি আইনে যুক্তরাষ্ট্রে যাদের ‘সাধারণ বাসস্থান’ ছিল, নাগরিকত্ব নির্বিশেষে তাদের গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

জনশুমারি প্রশ্নপত্রে মানুষ নাগরিকত্বের যে তথ্য দেবে, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে। নাগরিকত্বসংক্রান্ত উত্তরগুলো হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয় এবং কর আদায়কারী সংস্থা তদারককারী ট্রেজারি বিভাগের সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত প্রশ্নপত্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা সম্পর্কিত প্রশ্ন যুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

জনশুমারিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ইতোমধ্যে ফেডারেল আইনে অপরাধ। এর আগে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের জনশুমারিতে নাগরিকত্বসংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই উদ্যোগ আটকে দেয় এবং প্রশাসনের দেওয়া কারণকে ‘কৃত্রিম’ বা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের প্রশ্ন ট্রাম্পের ব্যাপক নির্বাসন কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হতে পারে। একই সঙ্গে ভয় তৈরি হওয়ায় জনশুমারিতে অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে, যা বিভিন্ন সম্প্রদায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে বিকৃত করবে এবং সরকারি সম্পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করবে বলে তারা মনে করছেন।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জনসংখ্যাবিদ উইলিয়াম ফ্রে বলেন, এই প্রস্তাব শুধু জনশুমারি পরিচালনার পদ্ধতি বদলানোর উদ্যোগ নয়; এটি ‘কে আমেরিকান’—এই ধারণাটিও বদলানোর চেষ্টা। তাঁর আশঙ্কা, প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হলেও এতে জনশুমারিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভীতি তৈরি হতে পারে।

গত ২ সেপ্টেম্বর বিচার বিভাগ সতর্ক করে বলেছিল, অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের সংস্থার কাছে থাকা নথিবিহীন অভিবাসীদের বিষয়ে তথ্য না দিলে বিলিয়ন ডলারের কল্যাণ তহবিল হারাতে পারে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *