রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে আপাতত থাকতে পারবেন সালভাদরের টিপিএসধারীরা, বৈধভাবে কাজ অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রে আপাতত থাকতে পারবেন সালভাদরের টিপিএসধারীরা, বৈধভাবে কাজ অনিশ্চিত
শেয়ার করুন:

সালভাদরের প্রায় ২ লাখ অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িক সুরক্ষিত অবস্থান বা টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে বুধবার পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন এ সুরক্ষা বাতিল করবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি থাকলেও অনেক টিপিএসধারীর কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা বৈধভাবে কাজ করতে পারছেন না।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সালভাদরের টিপিএস নিয়ে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ঘোষণা দেওয়া হবে। ঘোষণা না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে টিপিএসের আওতায় থাকা সালভাদরীয়রা সুরক্ষা পেতে থাকবেন।

তবে অভিবাসন আইনজীবী জুলি মিচেল বলেন, থাকার সুরক্ষা থাকা মানেই কাজের অনুমতি বহাল থাকা নয়। সেন্ট্রাল আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের এই আইনজীবীর ভাষ্য, টিপিএসধারীদের কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে। কাজের অনুমতি বাড়ানোর বিষয়ে কোনো ধরনের সম্প্রসারণ না থাকায় পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

মিচেল আরও বলেন, টিপিএসের মেয়াদ শেষ হলেও সালভাদরীয়দের তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়তে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, টিপিএস বাতিল করতে হলে ৬০ দিনের নোটিশ দিতে হয়। কিন্তু কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একই ধরনের নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ হলো বৈধভাবে কাজ করার অধিকার হারানো।

সালভাদরের টিপিএসধারী লোরেনা জেপেজা বলেন, তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে জীবন গড়ে তুলেছে এবং একটি বাড়ি কিনেছে। কাজের অনুমতি হারালে বাড়ির ঋণের কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন এবং পরিবারের ওপর নির্ভরশীল। কাজ না থাকলে মেয়ের শিক্ষার খরচসহ সংসারের ব্যয় চালানো কঠিন হবে বলে জানান জেপেজা।

প্রায় ২ লাখ সালভাদরীয় ২০০১ সাল থেকে টিপিএসের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। নিজ দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সশস্ত্র সংঘাত বা অনিরাপদ পরিস্থিতি থাকলে দেশটির নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ও কাজ করার সুযোগ দেয় এই কর্মসূচি। সাধারণত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিবের সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের জন্য এ সুরক্ষা নবায়ন করা যায়।

২০০১ সালে সালভাদরে ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পের পর দেশটির নাগরিকদের জন্য টিপিএস চালু করা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন দায়িত্ব ছাড়ার আগে এই সুরক্ষা ১৮ মাসের জন্য বাড়িয়েছিল, যার মেয়াদ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। তবে ডিএইচএস কোনো পদক্ষেপ না নিলে সুরক্ষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ছয় মাস বাড়তে পারে। মে মাসে লেবাননের প্রায় ১১ হাজার নাগরিকের ক্ষেত্রে এমন স্বয়ংক্রিয় সম্প্রসারণ হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ভেনেজুয়েলা, হাইতি, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, আফগানিস্তান ও সিরিয়াসহ ১৩টি দেশের ১০ লাখের বেশি মানুষের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে। সালভাদর ছাড়া বর্তমানে আরও তিন দেশের নাগরিকরা এই সুরক্ষায় রয়েছেন; ইউক্রেন ও সুদানের ক্ষেত্রে মেয়াদ অক্টোবরে এবং লেবাননের ক্ষেত্রে নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।

ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’ টম হোমান বলেছেন, টিপিএসের মেয়াদ শেষ হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েন মুলিনের ওপর নির্ভর করছে। হোমানের মতে, ‘অস্থায়ী সুরক্ষিত অবস্থান’ অর্থই হলো এটি স্থায়ী নয়। তিনি আরও বলেন, নতুন প্রেসিডেন্টের অধীনে সালভাদর আগের তুলনায় অনেক নিরাপদ হয়েছে।

১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস টিপিএস কর্মসূচি চালু করে। তবে সালভাদরের পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দেশটির ব্যাপক ও নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং নিখোঁজের অভিযোগ তুলেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলের সরকার ২০২২ সালে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করার পর অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড কমেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।

সালভাদর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নির্বাসন নীতির সহযোগী দেশগুলোর একটি এবং নির্বাসিতদের গ্রহণকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সালভাদরীয়রা গত বছর নিজ দেশে ৯৯০ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ২৪ শতাংশের সমান বলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *