সংবাদ সমাজ

টিকাদানের আগেই মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০ বছরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র

শেয়ার করুন:

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা-লুটপাট, সরকারি টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রী লুটের অভিযোগ; ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও থামেনি ধ্বংসযজ্ঞ

সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরুর ঠিক আগের রাতে রাজধানীর মিরপুরে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর, লুটপাট ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুই শতাধিক ব্যক্তি কেন্দ্রটিতে হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করেন। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি টিকা, ওষুধ, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, চিকিৎসা ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় একজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ হলো? শাহ আলী থানা জানিয়েছে, হামলার সময় পুলিশ সেখানে ছিল। এরপরও কীভাবে লুটপাট ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবন ভাঙার ঘটনা ঘটল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

১৯৭৪ থেকে স্বাস্থ্যসেবা

১৯৭৪ সালে তৎকালীন সুইডিশ সেভ দ্য চিলড্রেনের রাড্ডা বার্নেন উদ্যোগে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবার জন্য প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ সময়ে এটি প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা, শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান ও বিভিন্ন পরীক্ষার সুবিধা দিয়ে আসছিল।

মিরপুরের প্রধান কেন্দ্রের পাশাপাশি মিরপুর-১, বাউনিয়াবাদ, উত্তরা, ভাসানটেক বস্তি ও পুরান ঢাকায়ও এর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ছিল।

জমি নিয়ে বিরোধ

ঘটনার সঙ্গে কেন্দ্রটির জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। তবে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভিন্ন দাবি রয়েছে।

একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসের পাশাপাশি সরকারি টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রী লুটের অভিযোগ এবং পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই হামলা চলার ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন—কারা এই হামলার নেপথ্যে, কেন এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো এবং নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকা কোথায়?

:ডেস্ক

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *