রাজনীতি রাজনীতির খবর সংবাদ

আন্দোলনের মালিকানা কার? জনগণ, না কোনো একক দলের…

শেয়ার করুন:

সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলো নিয়ে এখন একটি অদ্ভুত বয়ান শোনা যাচ্ছে— যেন সবকিছু শুধুমাত্র জামায়াত করেছে। কিন্তু বাস্তবতা কি এত সরল?

লাভ পার্কে জিয়া ভাই সহ ২০ জুলাই।

যে আন্দোলনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে ডান–বাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর ভেতরের সমালোচনামুখর অংশ, এবং নানা অরাজনৈতিক মানুষ— সবাই ছিল। রাজপথ কখনো একদলের একার সম্পত্তি হয় না। সাধারণ মানুষ রাস্তায় না নামলে কোনো আন্দোলনই বাস্তব রূপ পায় না।

পরবর্তীতে আরও কয়েকটি কর্মসূচি হয়েছে— বিএনপির উদ্যোগে সিটি হল, আপার ডার্বি, নর্থ ইস্টসহ বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ হয়েছে। সেগুলোতেও অংশ নিয়েছে নানা মত ও পথের মানুষ। তাহলে হঠাৎ করে কেন বলা হচ্ছে— সবই কেবল জামায়াতের আন্দোলন?

২৪–এর আন্দোলনকে এককভাবে জামায়াতের বলে দাবি করা সহজ হতে পারে, কিন্তু তা বাস্তবতার পুরো ছবি নয়। যদি সাধারণ মানুষ মনে করত এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মসূচি, তাহলে শুরুতেই তার গতি থেমে যেত। জনসম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী বা প্রভাবশালী হয় না।

এখন প্রশ্ন উঠছে— সরকারপ্রধানের বিদায়ের পর কোনো একটি দল এসে বলবে “আমরাই ছিলাম”— এটা কতটা গ্রহণযোগ্য? অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো কি তবে নিষ্ক্রিয় ছিল? রাজপথের সংগ্রামকে একক মালিকানায় নেওয়ার এই প্রবণতা বিভ্রান্তিকর।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–কে নিষিদ্ধ করতে হবে। একটি দলের ভেতরে ব্যক্তিগত দায় থাকতে পারে, নেতৃত্বের ভুল থাকতে পারে— কিন্তু সেই কারণে পুরো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও ভেবে দেখা প্রয়োজন। একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে দেওয়া মানে রাজনৈতিক পরিসরকেই সংকুচিত করা।

প্রবাসেও— বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে— যারা রাস্তায় নেমেছেন, তারা সবাই কোনো নির্দিষ্ট দলের কর্মী নন। অনেকেই ছিলেন একেবারেই সাধারণ মানুষ। তাদের প্রতিবাদ ছিল দেশের ভেতরের সহিংসতা, শিশু হত্যার অভিযোগ এবং প্রকাশ্য অবিচারের বিরুদ্ধে।

ফিলাডেলফিয়া সিটি বহির্বিশ্বে প্রথম আন্দোলন করি আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাএদের নিয়ে। ১৭ ই জুলাই ২০২৪।

মিথ্যারও একটি সীমা আছে। রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে, মতভেদ থাকতেই পারে— কিন্তু একটি গণআন্দোলনের বহুমাত্রিক চরিত্রকে সংকুচিত করে একদলের কৃতিত্ব বা দায়ে ফেলে দেওয়া ইতিহাসের প্রতি অবিচার।

গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত জনগণেরই— কোনো একক দলের নয়।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *