সাহিত্য

বাংলাদেশে পাপেটশিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশের প্রজন্মপরম্পরায় বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা শেষে রাজধানীর বনানীতে তাঁকে দাফন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

বাংলাদেশের শিল্পসংস্কৃতির আকাশ থেকে ঝরে পড়ল আরেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। দেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, পাপেটশিল্পের পথিকৃৎ, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। চলতি বছর ২০২৬-এর ১৪ জুন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

চিত্রকলা, পাপেট, শিশুতোষ অনুষ্ঠান এবং গণমাধ্যম—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন অমলিন অবদান। ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সৃজনশীলতা, নন্দনচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর সৃষ্টি ‘পারুল’, ‘মীনা’র সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের কিংবদন্তি অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ আজও কোটি মানুষের স্মৃতিতে অম্লান।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে চারুকলা অনুষদে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। পরে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কবি গোলাম মোস্তফার পরিবারে জন্ম নেওয়া মুস্তাফা মনোয়ার শৈশব থেকেই শিল্পচর্চায় নিজেকে নিবেদিত করেন। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রথম পাপেট শোর আয়োজন—তাঁর জীবন ছিল দেশ, মানুষ ও শিল্পের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পূর্বপাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি) এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি লাভ করেন দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক।

মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে দেশের শিল্পাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। তাঁর তুলির আঁচড়, পাপেটের ভাষা, শিশুদের জন্য নির্মিত অসংখ্য সৃষ্টিকর্ম এবং আজীবনের শিল্পসাধনা তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।


ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *