নিউইয়র্কের জাতীয় জুরিড প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ও চিত্রশিল্পী ডা. মশিউল চৌধুরীর সাফল্য! চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিল্পী—তিন পরিচয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন স্বীকৃতি!
বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক, শিল্পী ও শিক্ষাবিদ ডা. মশিউল চৌধুরী নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী Blue Mountain Gallery আয়োজিত National Summer Juried Exhibition-এ নিজের একটি চিত্রকর্ম নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে নতুন স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য শিল্পীর জমা দেওয়া কাজের মধ্য থেকে জুরি বোর্ডের বাছাইয়ে তাঁর এই নির্বাচিত হওয়াকে সমকালীন শিল্পীদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডা. মশিউল চৌধুরী পেশায় একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ (Infectious Disease Physician)। তিনি বর্তমানে Virtua–Rowan University School of Osteopathic Medicine-এর সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসাসেবা, গবেষণা ও চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে শিল্পচর্চা করে আসছেন। চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততার মধ্যেও শিল্পের প্রতি তাঁর অবিচল অনুরাগ তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর একক চিত্রপ্রদর্শনীর সংখ্যা দুই ডজনেরও বেশি। অভিব্যক্তিমূলক (Expressionist) শিল্পধারায় নির্মিত তাঁর চিত্রকর্মে নগরসভ্যতা, মানুষের অস্তিত্ব, অভিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতা এবং সময়ের নানা অনুষঙ্গ শক্তিশালী রঙ ও সাহসী ব্রাশস্ট্রোকের মাধ্যমে ফুটে ওঠে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাচীন শিল্পসংগঠন Philadelphia Sketch Club থেকে Best Landscape Painting Award অর্জন করে তিনি শিল্পাঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।
শিল্পচর্চার পাশাপাশি শিল্পশিক্ষক হিসেবেও তিনি সমান পরিচিত। তিনি Penn Studio School of Art এবং Cerulean Arts-এর ফ্যাকাল্টি হিসেবে চিত্রাঙ্কন শেখানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত শিল্পকর্মশালা পরিচালনা করেন। তাঁর পরিচালিত কর্মশালাগুলো শিল্পপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।

নতুন প্রজন্মের শিল্পী গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ডা. মশিউল চৌধুরী। দক্ষিণ নিউ জার্সিতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত SharinasArtyCrafty গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি-আমেরিকান শিশু-কিশোরদের শিল্পশিক্ষা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণ, শিল্প-ইতিহাসের পাঠ এবং জুরিড প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সম্প্রতি তাদের আয়োজিত Color Beyond Borders শীর্ষক শিশুদের জুরিড প্রদর্শনীতে ১৩৪টি শিল্পকর্ম জমা পড়ে এবং যাতে ২৮ জন শিশু-কিশোর এবং তরুণ শিল্পী অংশগ্রহণ করেন।
নিজের শিল্পদর্শন সম্পর্কে ডা. মশিউল চৌধুরী বলেন, চিকিৎসা ও শিল্প—দুই ক্ষেত্রেরই কেন্দ্রবিন্দু মানুষ। একজন চিকিৎসক মানুষের শারীরিক ক্ষত সারিয়ে তোলেন, আর একজন শিল্পী মানুষের অনুভূতি, স্মৃতি ও সময়কে দৃশ্যমান করে তোলেন। এই দুই অভিজ্ঞতাই তাঁর শিল্পচিন্তাকে সমৃদ্ধ করেছে।

শিল্পবোদ্ধাদের মতে, নিউইয়র্কের Blue Mountain Gallery-এর জাতীয় জুরিড প্রদর্শনীতে তাঁর নির্বাচিত হওয়া শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে বাংলাদেশি শিল্পীদের ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। চিকিৎসা, শিক্ষা ও শিল্প—এই তিন ক্ষেত্রে সমান সাফল্যের মাধ্যমে ডা. মশিউল চৌধুরী নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আশরাফুল ইসলাম আরিফ। লেখক ও সাংবাদিক



