-যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের অবসানের পথে?
-ডে-লাইট সেভিংস স্থায়ী করতে প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাস, এখন সিনেটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের নিয়মের অবসান ঘটতে পারে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ (House of Representatives) ‘Sunshine Protection Act’ নামে পরিচিত একটি বিল বিপুল দ্বিদলীয় সমর্থনে ৩০৮-১১৭ ভোটে পাস করেছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে সারা বছর একই সময় বজায় থাকবে এবং মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না।
সর্বশেষ অগ্রগতির ফলে বিলটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বিবেচনার জন্য যাবে। সিনেটে অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর পেলেই এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে। তবে সিনেটে এর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ২০২২ সালেও সিনেট একই ধরনের একটি বিল অনুমোদন করলেও তা প্রতিনিধি পরিষদে পাস না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি।
প্রস্তাবিত আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো Daylight Saving Time (DST)-কে স্থায়ী করা। অর্থাৎ বসন্তকালে ঘড়ি এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়ার পর আর শীতকালে এক ঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়া হবে না। ফলে সারা বছর একই সময় কার্যকর থাকবে এবং প্রতি বছর দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল হবে।

বিলটির সমর্থকদের দাবি, বছরে দুইবার সময় পরিবর্তনের কারণে মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্থায়ী ডে-লাইট সেভিংস চালু হলে এসব সমস্যা কমবে, সন্ধ্যায় বেশি সময় প্রাকৃতিক আলো পাওয়া যাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে বিরোধীরা বলছেন, স্থায়ী ডে-লাইট সেভিংস চালু হলে শীতকালে সূর্য আরও দেরিতে উঠবে। এতে স্কুলগামী শিশু, ভোরে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। অনেক ঘুম ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞও স্থায়ী Standard Time-এর পক্ষে মত দিয়েছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে মার্চ মাসের দ্বিতীয় রবিবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে এবং নভেম্বর মাসের প্রথম রবিবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়া হয়। তবে হাওয়াই এবং অ্যারিজোনার অধিকাংশ এলাকায় ডে-লাইট সেভিংস অনুসরণ করা হয় না।
বিলটি আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের পুরনো সময় পরিবর্তনের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এখন সব নজর সিনেটের সিদ্ধান্তের দিকে।
ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা



