চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : স্ত্রী ও তিন ছেলে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে। আর দেশের বাড়িতে একা একাই কাটছিল ৬৫ বছর বয়সী আবদুর রহমানের জীবন। নিজের রান্না নিজেই করতেন, নিজের দেখাশোনাও নিজেকেই করতে হতো। শেষ পর্যন্ত সেই নিঃসঙ্গ জীবনই যেন তাঁর মৃত্যুকেও করে তুলল আরও নির্মম। মৃত্যুর তিন থেকে চার দিন পর নিজ ঘরের খাটে পড়ে থাকা তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামে। নিহত আবদুর রহমান দীর্ঘদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন। দেড় বছর আগে দেশে ফিরে আর বিদেশে যাননি। এ সময় তিনি গ্রামের বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন। তাঁর স্ত্রী, তিন ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বর্তমানে দুবাইয়ে থাকেন। স্ত্রীও দুর্ঘটনাজনিত কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা সোমবার সারাদিন ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে ছোট ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরের খোঁজ নিতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা খুলতেই সামনে আসে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য—খাটের ওপর পড়ে আছে আবদুর রহমানের পচাগলা মরদেহ।
পুলিশ জানায়, মরদেহে পচন ধরেছিল এবং চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোকা লেগে গিয়েছিল। দুর্গন্ধে ঘরের ভেতরে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত শুক্রবার গ্রামের একটি চায়ের দোকানে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল আবদুর রহমানকে। এরপর আর কেউ তাঁকে বাইরে দেখেনি। এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁর খুব বেশি মেলামেশাও ছিল না। নিঃশব্দে কাটছিল তাঁর একাকী জীবন।
এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, প্রবাসনির্ভর অসংখ্য পরিবারের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার যখন দূরদেশে, তখন দেশের বাড়িতে একা পড়ে থাকা অনেক প্রবীণ নীরবে বয়ে বেড়ান নিঃসঙ্গতা, অসহায়ত্ব ও অবহেলার ভার। আবদুর রহমানের করুণ পরিণতি আবারও মনে করিয়ে দিল—অর্থনৈতিক স্বপ্ন পূরণের দৌড়ে মানবিক সম্পর্ক ও প্রবীণদের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা



