অর্থনীতি

জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাত : প্রতিযোগিতার নতুন দরজা, নাকি নতুন সিন্ডিকেটের ঝুঁকি?

শেয়ার করুন:

ঢাকা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি অনেকটাই নির্ভর করে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ওপর। শিল্পকারখানার উৎপাদন, কৃষির সেচ, পণ্য ও যাত্রী পরিবহন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন—প্রায় প্রতিটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জ্বালানি তেল সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে জ্বালানি তেলের আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য শুধু একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্পের উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বাজারজাতকরণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ভূমিকা রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা এবং দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার সরকারি উদ্যোগকে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত এক সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণন ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করতে সরকার অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের যুক্তি—বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়বে এবং জ্বালানি বাজার আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু এই উদ্যোগের সম্ভাব্য সুফলের পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ কি জ্বালানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে, নাকি দুর্বল নিয়ন্ত্রণের সুযোগে নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি হবে?

 

প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সুবিধা হলো জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়া। বর্তমানে সীমিতসংখ্যক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে ক্রয়প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা সরবরাহে কোনো ধরনের বিলম্ব হলে তার প্রভাব দ্রুত পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একাধিক যোগ্য প্রতিষ্ঠান আমদানিতে যুক্ত হলে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে অন্য আমদানিকারকরা ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবে। এতে সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

দ্রুত সিদ্ধান্ত ও আমদানি দক্ষতা

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে অনুকূল সময়ে ক্রয়াদেশ দেওয়া, বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজে বের করা কিংবা পরিবহন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রতিযোগিতার ফলে আমদানিকারকদের মধ্যে ভালো দামে পণ্য সংগ্রহ, দ্রুত সরবরাহ এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হবে। শেষ পর্যন্ত এর সুফল যদি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো যায়, তাহলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

স্টোরেজ ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়তে পারে

বেসরকারি খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হলো অবকাঠামো উন্নয়ন। নতুন আমদানিকারকরা টার্মিনাল, স্টোরেজ, পাইপলাইন, পরিবহন ব্যবস্থা ও পরিশোধন অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করতে পারে।

দেশে পর্যাপ্ত আধুনিক সংরক্ষণ সক্ষমতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম তুলনামূলক কম থাকার সময়ে জ্বালানি সংগ্রহ করে মজুত করার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারের এককভাবে অবকাঠামো বিনিয়োগের চাপও কিছুটা কমতে পারে।

 

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জ্বালানি নিরাপত্তা

জ্বালানি তেল সাধারণ ভোগ্যপণ্যের মতো নয়। এর সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও শিল্প, পরিবহন, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

তাই বেসরকারি খাতকে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত কৌশলগত মজুত নিশ্চিত করতে হবে। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানি কমিয়ে দিলে বা ব্যবসা সাময়িকভাবে সীমিত করলে যাতে দেশের বাজারে সংকট না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রীয় ‘ব্যাকআপ’ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এ ক্ষেত্রে বিপিসির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিপিসিকে শুধু আমদানিকারক হিসেবে নয়, বরং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার কৌশলগত রক্ষাকবচ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

 

মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা জরুরি

বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হবে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ।

আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, সংরক্ষণ ব্যয়, কর ও শুল্ক এবং ব্যবসায়িক মুনাফা—সবকিছুর সমন্বয়ে স্থানীয় বাজারদর নির্ধারণের একটি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য সূত্র থাকতে হবে।

এ ব্যবস্থা স্বচ্ছ না হলে বেসরকারি আমদানির সুযোগকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ, অতিরিক্ত মুনাফা কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

সরকারি একচেটিয়ার বদলে বেসরকারি সিন্ডিকেট নয়

বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে নতুন ধরনের বাজার নিয়ন্ত্রণ।

সরকারি একচেটিয়া ব্যবস্থার পরিবর্তে যদি মাত্র কয়েকটি বড় কোম্পানি জ্বালানি তেল আমদানির বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতা তৈরি হবে না। বরং নতুন ধরনের সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও মূল্য কারসাজির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক সক্ষমতা নয়—প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, সংরক্ষণ ক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অভিজ্ঞতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সরবরাহ সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

 

মজুতদারি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে প্রত্যেক আমদানিকারকের জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম মজুতের বিধান রাখা যেতে পারে। একই সঙ্গে আমদানি, মজুত ও বিক্রির তথ্য নিয়মিতভাবে নিরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।

কোন প্রতিষ্ঠান কত দামে তেল কিনল, কোন দেশ বা উৎস থেকে আনল, পরিবহন ও সংরক্ষণে কত ব্যয় হলো এবং কী দামে বাজারজাত করল—এসব তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা গেলে অনিয়মের সুযোগ অনেকটাই কমবে।

 

ডলারের বাজারেও প্রভাব পড়বে

জ্বালানি তেল আমদানির সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারও সরাসরি যুক্ত। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে আমদানি করলেও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে।

অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত আমদানি হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই বেসরকারি আমদানিকে শুধু একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় করাও জরুরি।

 

ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা, তবে হুবহু নয়

এ ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। দেশটিতে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও নায়ারা এনার্জির মতো প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি, পরিশোধন এবং বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য বাজারজাত করছে।

তবে ভারতের মডেল সরাসরি বাংলাদেশে প্রয়োগ করা বাস্তবসম্মত হবে না। ভারতের বাজার অনেক বড়; দেশটির রয়েছে বিশাল পরিশোধন সক্ষমতা, বন্দর অবকাঠামো এবং বড় ভোক্তা বাজার। বাংলাদেশের বাজার তুলনামূলক ছোট এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতাও ভিন্ন।

তাই ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের বাজার, অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজস্ব মডেল তৈরি করতে হবে।

 

শুধু তেল আমদানি নয়, পরিশোধন সক্ষমতাও বাড়াতে হবে

দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য শুধু পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো গুরুত্বপূর্ণ। অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশে মূল্য সংযোজন হবে, নতুন শিল্প গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ জন্য নতুন রিফাইনারি, স্টোরেজ, টার্মিনাল ও পাইপলাইন নির্মাণে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

 

রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে?

বেসরকারি খাতকে আমদানির সুযোগ দেওয়ার অর্থ রাষ্ট্রের দায়িত্ব কমে যাওয়া নয়; বরং রাষ্ট্রের দায়িত্বের ধরন বদলে যাওয়া।

রাষ্ট্রকে সরাসরি সব ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে বাজারের জন্য স্বচ্ছ নিয়ম তৈরি, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত, জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা এবং ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

বিপিসিকে কৌশলগত মজুত, জরুরি সরবরাহ ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রীয় দায়িত্বে রেখে যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আমদানি ও বাজারজাতকরণে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

 

প্রয়োজন শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো

এই পুরো ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে নজরদারি ও জবাবদিহির ওপর। জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রতিযোগিতা কমিশন এবং অন্যান্য অংশীজনের সমন্বয়ে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বাজারে কারসাজি, কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কার্যকর শাস্তির বিধান থাকতে হবে।

 

সুযোগ বড়, ঝুঁকিও কম নয়

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগকে শুধু ভালো বা খারাপ—এমন সরল সমীকরণে দেখার সুযোগ নেই। সঠিক নীতিমালা ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকলে এই উদ্যোগে আমদানি দক্ষতা বাড়তে পারে, সরবরাহের বিকল্প উৎস তৈরি হতে পারে, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়তে পারে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে দুর্বল নিয়ন্ত্রণ থাকলে সরকারি একচেটিয়ার পরিবর্তে বেসরকারি সিন্ডিকেট, মজুতদারি, মূল্য কারসাজি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার নতুন ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’—যেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবসার সুযোগ পাবে, কিন্তু জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা, কৌশলগত মজুত, মূল্যস্বচ্ছতা ও ভোক্তার স্বার্থ রক্ষার চূড়ান্ত দায়িত্ব থাকবে রাষ্ট্রের হাতে।

জ্বালানি তেল নিছক একটি বাণিজ্যিক পণ্য নয়; এটি অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে সফল করতে হলে শুধু বাজার খুলে দিলেই হবে না—একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা, জবাবদিহি ও জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা।

সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা গেলে বেসরকারি খাতের প্রবেশ বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে একটি যুগান্তকারী সংস্কারের সূচনা হতে পারে। আর সেই ভারসাম্য ব্যর্থ হলে প্রতিযোগিতার নামে তৈরি হতে পারে নতুন একচেটিয়া বাজার—যার খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হবে সাধারণ ভোক্তা ও দেশের অর্থনীতিকেই।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *