ঢাকা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের সরকারি অর্থবছরের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছর হিসাব করা হলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে জুলাই-আগস্টসহ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকায় নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। বৃষ্টির কারণে উন্নয়নকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনদুর্ভোগও বাড়ে। নতুন অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলে বর্ষা শুরুর আগেই অধিকাংশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অর্থবছর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।
অর্থবছর পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের সংবিধান ও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায়ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
২০২৭-২৮ হবে অন্তর্বর্তী অর্থবছর
নতুন অর্থবছর চালুর আগে একটি অন্তর্বর্তী সময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল বা অন্তর্বর্তী অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ওই অর্থবছর ৯ মাসের জন্য—জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত—চলবে।
এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নতুন অর্থবছর অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সরকারের প্রত্যাশা, নতুন সময়সূচির ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি আরও বাস্তবসম্মত হবে, বর্ষাকালজনিত প্রতিবন্ধকতা কমবে এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর সমন্বয় সম্ভব হবে।



