উৎসর্জন / বিজয় আহমেদকে
বিজয়, আর্কানসাসের বাতাস কী
উথালপাতাল যৌবন নিয়ে
বেলা গেলে ছায়া নামায় গাঢ় বেগুনী আপেলে?
বেলা রাবার গলা বাতাসে নড়ে
আমাকে অতিক্রম করতে আসে যে বাতাস
বুঝে না সে, জীবন যে এক অর্থময়
পাখির পালকের ফাঁক ধরে
আলো আসে—ভেন্টিলেটরের মাঝখানে
একটি হৃদপিণ্ড জুড়ে
আগস্টের গরম দিন
দু’ পাশের লতা-পাতা
নও তবে সেই তো দূরেই
এমন আলোর পেন্টিং নিয়ে কী
অঁরি মাতিস—আপনার মতো আমারও বেদনা হয়।
একটা ঘন্টা ফুরিয়ে আসে কেবল
সময় তো বিদ্যুতের তারে আটকে পড়া বাদুড় নয়
আমাদের একই আকাশ
তবু কোথায় আর্কানসাস আর কোথায় মধুপুর
একই সূর্য ইতিকাফ
তুমি কী একবারও পাঠ করবে না
আনারস বাগানের বাঁকানো হাড়
কিংবা বিজয় যেখানে থাকে সেই
সাউথ আর্কানসাসের ভাইন রাইপ পিঙ্ক টমেটোর খেত
তারপরও হাসে ইতিহাস
দূর থেকে ভেসে আসছে মোরগের ডাক
মনে হবে কথা হচ্ছে
দুপুর, তোমার অপেক্ষা
সখা হে—
বউ ভাত বেড়ে বসে আছে
ভাত খেতে খেতে, কথা হবে আমাদের মিনমিনে
অফ হোয়াইট রঙ চার দেয়ালে
এক কোণে ফ্লাওয়ার ভাস
কয়েকটা কালো মাছি উড়ে বেড়াবে
যাদের আত্মীয়তা নেই, তবু আপনজনা
আমাদেরই মতো সব
বিগত অথবা অনাগত—অমূর্ত জ্যাোতির ইশারা
আজ বাড়ি যাবার কথা ছিল
পৃথিবীতে বাড়ির পথই স্বর্গের পথ
এতে কোন দ্বিধা নেই
বুকের বারান্দায় বিকেলের লাশ পাহারা দিই
আর ভাবি, বিষাদ মানুষের আনন্দধারা
প্রতিপথে কাঁটাযুক্ত ফুলের মতো
মেঘগুলো ভেসে যায়
মেঘেদের দেখে আমার দাঁড়িয়ে থাকা একটা সিগন্যাল
তারা আজ কতদূরের নাইওরি
আমার ভেতরটা এখনো উড়াল শিখেনি
একজন মৃত শুভ্রর উড়ালমায়া
সূর্য সনে একদিন—উড়ে গেলে
মানুষ ভালোবাসি বলে আমিও ভাববো
সহজ হওয়া কত না সুন্দর।
পূর্বাকাশ—
আলোর মূর্তির পাশে কিছু মেঘসঞ্চার
পাখিদের ভেদরেখা এসে মুছে যায়
এ—এক বাতাসের ভিতর থেকে মনে পড়ে
পীর শেখ ফরিদ কিংবা শাহজাহান
জলের মিম্বরে ঘুরতেছেন পীর শেখ ফরিদ
আর নিঁখোজ হওয়া শাহজাহান
যমুনার চর থেকে যে গল্পটা উড়তে উড়তে
বিজয়ের কাছেই হয়তো থেমে আছে
ইয়েলোউড ঝরা পাতার হলুদ আকস্মিকতায়—

শুভ্র সরকার। কবি, গদ্যকার ও পত্রিকাসম্পাদক



