প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে CNN, MS NOW ও Politico-কে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নিষেধাজ্ঞা ‘অবিলম্বে’ কার্যকর হবে। তিনি আরও জানান, অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শনিবার CNN-এর এক প্রতিবেদক ও একজন আলোকচিত্রী হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বুথে প্রবেশের অনুমতি পাননি। আলোকচিত্রী জানান, বুথ থেকে বের হওয়ার সময় তাদের পাস জব্দ করা হয়। প্রতিবেদকের পরিচয়পত্রের খালি স্লিভ দেখানোর কথাও জানানো হয়েছে। পরে CNN জানায়, একজন সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তা ওই প্রতিবেদককে বলেছেন, তার ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
MS NOW-ও জানিয়েছে, তাদের কয়েকজন সাংবাদিককে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদক জানান, একই নেটওয়ার্কের একজন প্রযোজক প্রবেশ করতে পারলেও তার নিজের ব্যাজ নেওয়া হয় এবং তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কর্মকর্তারা কম্পিউটারে তথ্য যাচাই করে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলে জানালেও শেষ পর্যন্ত ব্যাজটি নিষ্ক্রিয় থাকার কথা জানান।
Politico-এর প্রধান সম্পাদক জোনাথন গ্রিনবার্গার বলেছেন, সিক্রেট সার্ভিস তাদের একজন প্রতিবেদককে হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেয়নি এবং তার প্রেস পরিচয়পত্র নিয়ে নিয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদক ও হোয়াইট হাউস কভার করা সব সাংবাদিকের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রথম সংশোধনী অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
CNN এক বিবৃতিতে বলেছে, সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রতিবেদন করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান তাদের দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ওই মৌলিক অধিকারের ওপর ‘অবৈধ আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। MS NOW বলেছে, প্রথম সংশোধনী অধিকার এবং গণতন্ত্রে স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। Politico-ও জানিয়েছে, তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রশাসনের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন চালিয়ে যাবে।
শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি মুক্ত সংবাদমাধ্যমকে সমর্থন করেন, তবে সংবাদমাধ্যমকে ‘ন্যায্য ও সৎ’ হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। ট্রাম্প বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। নিষেধাজ্ঞাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে CNN-এর তৎকালীন প্রতিবেদক জিম অ্যাকোস্টাকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। CNN এ বিষয়ে মামলা করলে পরে হোয়াইট হাউস সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাহার করে। চলতি মেয়াদে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকেও হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহকারী পুলে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ওই ঘটনা নিয়ে মামলা এখনও চলমান।



