সমাজ

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় সন্দেহভাজন সহকারী পাইলট আগে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় সন্দেহভাজন সহকারী পাইলট আগে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন
শেয়ার করুন:

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের অধিনায়ককে হামলা এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে আটক সহকারী পাইলটকে এর আগে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওমানের নাগরিক ২৯ বছর বয়সী হামাম আল হামামি। ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে সহকারী পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তার কাছে উগ্রপন্থী ভাবধারার উপকরণ পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। এরপর তাকে উড্ডয়ন থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হলেও প্রশাসনিক পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি শনিবার জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটির সহকারী পাইলট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি উড্ডয়নের সময় ককপিটে গিয়ে ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে অধিনায়কের ওপর হামলা করেন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এটাই প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ব্যবহৃত অস্ত্র হিসেবে ক্র্যাশ অ্যাক্সের কথা জানিয়েছে। এর আগে ঘটনাটিকে কেবল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছিল।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ঘটনার সব পরিস্থিতি, হামলার উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো সংযোগ ছিল কি না—তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া শারীরিক ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের কাজও চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে চূড়ান্ত ফলাফল জানানো হবে।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, আগে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও কীভাবে আল হামামি ফ্লাইদুবাইয়ে উড়োজাহাজ চালানোর অনুমতি পেলেন এবং কীভাবে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইটের ককপিটে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পান।

তদন্ত সম্পর্কে অবহিত সূত্রগুলোর দাবি, বৃহস্পতিবার সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তরের পর আল হামামি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। তিনি উড়োজাহাজটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্য ছিল বলেও জানিয়েছেন বলে সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।

ঘটনার সময় উড়োজাহাজটির অধিনায়ক স্মিত মাচ্ছার পাল্টা প্রতিরোধ করেন। পরে কয়েকজন যাত্রী হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে এনে বেঁধে ফেলেন। এ সময় উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছিল। যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, তিনি নিয়ন্ত্রণ সামলে উড়োজাহাজটিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেন। পরে যাত্রী হিসেবে থাকা তৃতীয় এক পাইলট দায়িত্ব নেন। শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই তেল আবিবে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ সরকারি তদন্ত চলছে এবং তারা তদন্তে সহযোগিতা করছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আল হামামিকে জিজ্ঞাসাবাদে যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন। তিনি আরও বলেছেন, তাকে কেউ পাঠিয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আল হামামির শিক্ষাজীবন সম্পর্কেও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনায় দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি। ২০২৫ সালে মরক্কোর জাতীয় বিমান সংস্থা রয়্যাল এয়ার মারকের সঙ্গে তিন মাসের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ নিলেও পরে তাকে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়নি।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *