সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে না-ফেরার দেশে এক বাংলাদেশি ডেটা-সায়েন্টিস্ট

শেয়ার করুন:

—যুক্তরাষ্ট্রে না ফেরার দেশে বুয়েটের মেধাবী সন্তান ইরফান আল-হুসাইনি
—এনভিডিয়ার সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্টের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া
—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় হারালো এক উজ্জ্বল বাংলাদেশি মেধা

নিজস্ব প্রতিবেদক : আরও এক সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি মেধার প্রদীপ নিভে গেল বিদেশের মাটিতে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান NVIDIA-এর সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ইরফান আল-হুসাইনি যুক্তরাষ্ট্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে দেশ-বিদেশের প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইরফান আল-হুসাইনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের একজন কৃতী শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি Georgia Institute of Technology থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। মেধা, অধ্যবসায় ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাখ্যাযোগ্য (Interpretable) মেশিন লার্নিং। তিনি ডকুমেন্ট ফিল্টারিং, স্বয়ংক্রিয় সারসংক্ষেপ (Summarisation), নেমড-এনটিটি রিকগনিশন (NER) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থায় ডোমেইন জ্ঞানের কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। পরবর্তীতে এনভিডিয়ায় সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ইরফানের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল অনুপ্রেরণার এক সুন্দর গল্প। ২০২৪ সালে জর্জিয়া টেক তাদের এক বিশেষ প্রকাশনায় ইরফান ও তাঁর স্ত্রী ফ্যাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনার জীবনসংগ্রাম, ভালোবাসা এবং একে অপরকে এগিয়ে নেওয়ার গল্প তুলে ধরে। বুয়েটে একই সময়ে পড়লেও তাঁদের পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২২ সালে আটলান্টায় তাঁদের বিয়ে হয় এবং ২০২৪ সালে দুজন একসঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের গৌরব অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁদের জীবনকে স্বপ্ন, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

ইরফান আল-হুসাইনি ছিলেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তাহমিদ আল-হুসাইনির পুত্র। শিক্ষাবিদ পরিবারের এই মেধাবী সন্তান নিজের প্রতিভা, গবেষণা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গর্বিত করেছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে বুয়েট, জর্জিয়া টেক, এনভিডিয়া এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি প্রযুক্তি ও গবেষণা সম্প্রদায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে একজন বিনয়ী, মেধাবী, সৃজনশীল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী বিজ্ঞানী হিসেবে স্মরণ করছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং স্বাস্থ্যসেবা গবেষণায় ইরফান আল-হুসাইনির অবদান ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর অকাল প্রয়াণ শুধু একটি পরিবারের নয়, বাংলাদেশের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা অঙ্গনের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।


ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *