ঢাকা, ১৩ জুলাই : টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও সিলেট বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত, ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে পৌঁছেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে (২৮ জন)। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ বহু এলাকায় এখনো ঘরবাড়ি ও সড়ক পানির নিচে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব এবং কৃষিজমি ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে, দুর্গত মানুষের সহায়তায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, রান্না করা খাবার ও জরুরি ওষুধ বিতরণ শুরু করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো উদ্ধার অভিযানের জন্য বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার, উদ্ধারকারী দল ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেটের নিম্নাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা



