প্রবাসে বসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা শুধু আবেগের বিষয় নয়—এটি আমাদের সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতাও। হাজার মাইল দূরে থেকেও যারা বাংলা নাটক, সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পচর্চাকে হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা মূলত আমাদের শেকড়কেই নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।
ফিলাডেলফিয়ায় কুশীলব অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক থিয়েটার উৎসব সেই সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বিভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির নাট্যকর্মীদের এক মঞ্চে এনে এই আয়োজন প্রমাণ করেছে—সংস্কৃতির কোনো সীমানা নেই; ভালো নাটক মানুষের হৃদয়কে এক সুতোয় বাঁধতে পারে।
এই অসাধারণ আয়োজনের সঙ্গে ফিলাডেলফিয়াপত্রিকার একটি বিশাল টিমের অংশগ্রহণ আমাদের জন্যও ছিল বিশেষ আনন্দ ও গর্বের। সংবাদপত্র শুধু সংবাদ প্রকাশ করে না; একটি সমাজের শিল্প, সংস্কৃতি, সাফল্য, স্বপ্ন ও সংগ্রামেরও সাক্ষী হয়ে থাকে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের টিম উৎসবের বিভিন্ন আয়োজন, নাট্যপ্রদর্শনী, শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবং দর্শকদের আবেগকে কাছ থেকে ধারণ করার চেষ্টা করে আসছে এবং করে যাবে।

মঞ্চে যখন আলো জ্বলে ওঠে, পর্দা সরে যায়, শিল্পীরা চরিত্র হয়ে ওঠেন—তখন সেখানে শুধু একটি নাটক মঞ্চস্থ হয় না; জীবনের গল্প বলা হয়, সমাজের কথা বলা হয়, মানুষের অনুভূতি প্রকাশ পায়। আর প্রবাসের মাটিতে সেই গল্প যখন বাংলায় বলা হয়, তখন তার সঙ্গে মিশে থাকে দেশ, শেকড় ও স্মৃতির এক গভীর টান।
কুশীলব অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের এই উৎসবের সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই—এটি শুধু নাটক দেখার সুযোগ তৈরি করেনি; বরং প্রবাসী সমাজকে সংস্কৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে দেখিয়েছে, আধুনিক বিশ্বের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করেও বিশ্বসংস্কৃতির অংশ হওয়া যায়।
আমরা বিশ্বাস করি, এমন আয়োজন যত বেশি হবে, ততই সমৃদ্ধ হবে প্রবাসের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। কারণ অর্থনৈতিক সাফল্য একটি প্রজন্মকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, কিন্তু সংস্কৃতির চর্চাই একটি প্রজন্মকে তার শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে।

ফিলাডেলফিয়াপত্রিকার পক্ষ থেকে তাই কুশীলব অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের সকল আয়োজক, নাট্যকর্মী, শিল্পী, কলাকুশলী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন।
এই উৎসব শেষ হলেও মঞ্চের আলো যেন নিভে না যায়। নাটকের আলো জ্বলুক, বাংলা সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে—প্রবাসের মাটিতে, বিশ্বমঞ্চে।
আশরাফুল ইসলাম আরিফ। লেখক ও সম্পাদক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা
লেখক ও সম্পাদক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা



