সাহিত্য

রবীন্দ্রনাথ কিহোতি ।। বদরুজ্জামান আলমগীর

শেয়ার করুন:

একালের এক কিঞ্চিৎ লেখক হিসাবে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি যাই আমি; উঠোনে, তার চত্বরে, চৌহদ্দিতে বসি—দুহাত ভরে ফুল আর দ্বিধা তুলে নিই; এবং এই প্রথম বুঝি—বেদনা ও শঙ্কা প্রাণজুড়ে নৃত্য করে ওঠে।

কৃষক খোঁজে সজল ধৈর্যবান শস্যের বীজ—আমরা যারা লিখতে, বা ভুলে যেতে এসেছি—তারা যাই রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি আখড়ার মাটি পিঁড়ির আসনে, দুহাতে আঁজলা ভরে তুলে নিই হাহাকারের অন্তর্মুখী বীজ—তিনিই আমাদের বীজাধার ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল সাঁঝবেলার তমিস্রা চারাগাছ। এই চারাগাছের অছিলায় আমরা রঙে ভাঙা মন, আমাদের প্রাণের রোদবৃষ্টি, ওঠানামা ও হিসাবি বেহিসাবি চলনের চালচিত্র তাঁরই বিন্যস্ত ভাষার চারুতায় বলতে, বা ভুলে যেতে বাঙ্ময় করে তুলি; আমি যে দুঃখ পাই তা রবীন্দ্রনাথের ভাষার নক্ষত্র ছাড়া কীভাবে মেলে ধরবো?

বিজয়ী শঙ্খনিনাদে সদা বাজে যে সাম্প্রতিক পুঁজিবাদী কাল—যে একতরফা বিজয়ের উল্লাসে মরিয়া—রবীন্দ্রনাথ এই চৌকস অর্জনমুখী কাঠামোর পিঠে একটি অপূর্ণতার টিপসই এঁকে দিয়ে বলেন—সবটুকু বিজয় কোনো বিজয় নয়, সে আসলে এক প্রাণহীন চাবুকের হিসহিস; কেবলই জ্ঞানের অঙ্ক জ্ঞান নয় আদতে—এ কালের ঝলমলে রাক্ষস; সবটুকু নিষ্কণ্টক জানায় অভিজ্ঞান নেই কোনো, আছে আয়তক্ষেত্র আর নামতা।

গীতাঞ্জলি হাতে রবীন্দ্রনাথ আমাদের দুয়ারে এসে বলেন—চোখ বুঁজে গন্ধে ছন্দে বুঝে দেখো—অর্ধেক তার বাস্তব, বাকি অর্ধেক অনুমান—সত্য এমন।


বদরুজ্জামান আলমগীর
নাট্যকার ও কবি

শেয়ার করুন:

2 Comments

  1. আনিস

    May 8, 2026

    শ্রদ্ধেয় বদরুজ্জামান আলমগীর সম্মানে কবিতা প্রয়াস:
    আনিস রহমান, মে ১০, ২০২৬

    অক্ষরের অর্ঘ্য ও অনাগত পথ

    রবির আলোয় চোখ বেঁধেছি, অনেক হলো চলা,
    তাঁরই ভাষায় সাজিয়ে নিই নিজের মনের বলা।
    উঠোনে তাঁর কুড়িয়ে পাওয়া দুঃখ-বীজের ভারে—
    আমার কলম মুখ লুকিয়ে তাঁরই অলংকারে।
    সকালবেলায় কলম ধরি, আকাশ পানে চাই,
    রবির আলো না পড়লে কিচ্ছু খুঁজে পাই?
    নিজের মনের হাজার ব্যাথা, হাজার রকম চাওয়া,
    সবই যেন কবির গানেই আগে থেকে পাওয়া!
    লিখতে বসি নতুন কথা, একলা নিজের সুরে,
    শব্দগুলো অমনি ছোটে শান্তিনিকেতন ঘুরে!
    হয়তো ভাবি ‘বিপ্লব’ লিখি, কিম্বা লিখি ‘খরা’,
    কলম বলে— ‘রবীন্দ্রনাথেই আছে সবটা ধরা’।
    কিন্তু এবার নয় কি সময়, বাঁধন ছাড়ার ক্ষণ,
    রবীন্দ্র-ছায়া পেরিয়ে খোঁজার নতুন এক ভুবন?
    হাহাকারের সেই পুরনো সাঁঝবেলাটির পরে—
    আসুক ভাষা রূঢ় কঠিন, ঘাম ঝড়া পাথুরে।
    অচেনা এক ছন্দে চলো ভেঙ্গে গণ্ডি যত,
    রক্তে মাখা শব্দ আসুক অবাধ্যদের মতো।
    অনাগত সেই কবি আসুক— ছিঁড়বে মায়াজাল,
    রবীন্দ্রত্তোর খুঁটির পরে গড়বে বাংলার নব কাল।

  2. Anis

    May 8, 2026

    শ্রদ্ধেয় বদরুজ্জামান আলমগীর সম্মানে কবিতা প্রয়াস:
    আনিস রহমান, মে ১০, ২০২৬
    অক্ষরের অর্ঘ্য ও অনাগত পথ
    রবির আলোয় চোখ বেঁধেছি, অনেক হলো চলা,
    তাঁরই ভাষায় সাজিয়ে নিই নিজের মনের বলা।
    উঠোনে তাঁর কুড়িয়ে পাওয়া দুঃখ-বীজের ভারে—
    আমার কলম মুখ লুকিয়ে তাঁরই অলংকারে।
    সকালবেলায় কলম ধরি, আকাশ পানে চাই,
    রবির আলো না পড়লে কিচ্ছু খুঁজে পাই?
    নিজের মনের হাজার ব্যাথা, হাজার রকম চাওয়া,
    সবই যেন কবির গানেই আগে থেকে পাওয়া!
    লিখতে বসি নতুন কথা, একলা নিজের সুরে,
    শব্দগুলো অমনি ছোটে শান্তিনিকেতন ঘুরে!
    হয়তো ভাবি ‘বিপ্লব’ লিখি, কিম্বা লিখি ‘খরা’,
    কলম বলে— ‘রবীন্দ্রনাথেই আছে সবটা ধরা’।
    কিন্তু এবার নয় কি সময়, বাঁধন ছাড়ার ক্ষণ,
    রবীন্দ্র-ছায়া পেরিয়ে খোঁজার নতুন এক ভুবন?
    হাহাকারের সেই পুরনো সাঁঝবেলাটির পরে—
    আসুক ভাষা রূঢ় কঠিন, ঘাম ঝড়া পাথুরে।
    অচেনা এক ছন্দে চলো ভেঙ্গে গণ্ডি যত,
    রক্তে মাখা শব্দ আসুক অবাধ্যদের মতো।
    অনাগত সেই কবি আসুক— ছিঁড়বে মায়াজাল,
    রবীন্দ্রত্তোর খুঁটির পরে গড়বে বাংলার নব কাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *