প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলেদের বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো তার নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি সক্রিয় বা প্রতিশ্রুত চুক্তি পেয়েছে। এ নিয়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা পেন্টাগনের চুক্তি প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিরক্ষা কোম্পানি আন্দুরিল ইন্ডাস্ট্রিজে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর কাউন্টিতে নতুন একটি স্থাপনা তৈরিতে নৌবাহিনী ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার দেবে। বাকি ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে আন্দুরিল।
সেখানে ভার্জিনিয়া শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন ও টর্পেডো টিউব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নতুন স্থাপনাটির নাম ‘আর্সেনাল-২’ রাখার কথা বলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ছয় অংশীদারের একজন হিসেবে তালিকাভুক্ত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ১৭৮৯ ক্যাপিটাল ২০২৫ সালের জুনে আন্দুরিলে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের মাধ্যমে বড় অংশীদারত্ব অর্জন করে। সরকারি চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, ওই বিনিয়োগের পর আন্দুরিল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে আরও ১৩৫টি চুক্তি পেয়েছে, যার মূল্য এখন পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।
আন্দুরিলের পাশাপাশি ট্রাম্প পরিবারের বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি কোম্পানিও সরকারি চুক্তি পেয়েছে। ফ্লোরিডাভিত্তিক ড্রোন নির্মাতা আনইউজুয়াল মেশিনসে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রকে উপদেষ্টা করা হয়। এর আগে কোম্পানিটির কোনো সরকারি চুক্তি ছিল না। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ৩ হাজার ৫০০টি প্রতিরক্ষা-অনুমোদিত মোটর সরবরাহের চুক্তি করে। ২০২৬ সালে আরও ২০ হাজার মোটর সরবরাহের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়।
ড্রোন কোম্পানি পাওয়ারাসের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগকারী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের নাম প্রকাশ করা হয় ২০২৬ সালের মার্চে। পরের মাসে কোম্পানিটি বিমানবাহিনীর কাছ থেকে প্রথম ক্রয়াদেশ পায়। জুলাইয়ে পাওয়ারাসকে আকাশ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য মনুষ্যবিহীন উড়োজাহাজ ব্যবস্থা সরবরাহে সর্বোচ্চ ৯০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়। কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বলেন, প্রতিরক্ষা ক্রয় যোগ্যতার ভিত্তিতে হয় এবং ট্রাম্প পরিবারের দুই সদস্য কোম্পানিটির দৈনন্দিন কার্যক্রমে যুক্ত নন।
কাঁচামাল, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও মহাকাশ খাতেও ট্রাম্প পরিবারের বিনিয়োগ রয়েছে। বিরল মাটি উত্তোলনকারী ভলকান এলিমেন্টসে ২০২৫ সালের আগস্টে বিনিয়োগের একই মাসে কৌশলগত মূলধন কার্যালয় প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম সম্প্রসারণে ৬২০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়।
টেক্সাসভিত্তিক ফায়ারহক অ্যারোস্পেসে ৬০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর কোম্পানিটি বিমানবাহিনীর কাছ থেকে ৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি পায়। পরে ২০২৬ সালের মে, জুলাই ও আগস্টে আরও কয়েকটি চুক্তি পায় প্রতিষ্ঠানটি, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগের ২৪ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্রসংক্রান্ত চুক্তিও রয়েছে।
এ ছাড়া ১৭৮৯ ক্যাপিটাল ক্যালিফোর্নিয়ার সাইকোয়ান্টামে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। এরপর প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে কোম্পানিটির আগের চুক্তির পরিমাণ ১৫৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়ে। বাণিজ্য বিভাগ ও প্রতিরক্ষা উন্নত গবেষণা প্রকল্প সংস্থার সঙ্গেও কোম্পানিটির যথাক্রমে ১০০ ও ১২৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা হয়।
অটোমেশন খাতেও একই ধরনের বিনিয়োগের কথা উঠে এসেছে। এরিক ট্রাম্প মানবসদৃশ রোবট নির্মাতা ফাউন্ডেশন ফিউচার ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা হন। কোম্পানিটি এপ্রিলে ২৪ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি পাওয়ার কথা জানানো হয়। ১৭৮৯ ক্যাপিটাল ২০২৬ সালের শুরুতে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হ্যাড্রিয়ানে ৩৯১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। কয়েক মাস পর হ্যাড্রিয়ান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ৩৯ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার এবং নৌবাহিনীর কাছ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি পায়।
কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল, এলিজাবেথ ওয়ারেন, রবার্ট গার্সিয়া ও ট্যামি ডাকওয়ার্থ মে মাসে পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলকে চিঠি দিয়ে এসব চুক্তি তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, তদন্তে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিরক্ষা বিভাগের স্বাধীন নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
ট্রাম্প পরিবারের মুখপাত্র কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুই ভাইয়ের বিনিয়োগ স্বাধীন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হয় এবং তারা সরকারি সিদ্ধান্ত, ক্রয়, চুক্তি বা নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন না। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।


