কারাকাস, ভেনেজুয়েলা: শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প এবং পরবর্তী একাধিক আফটারশকের আঘাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে অসংখ্য মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে নিহতের সংখ্যা ১৬০ জনের কাছাকাছি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও, এ সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, রাজধানী কারাকাস এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। বহু বহুতল ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। উদ্ধারকাজের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নিহত ও আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। কিছু পর্যবেক্ষক আশঙ্কা করছেন, বড় আকারের ভবন ধস এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর সত্য হলে হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজারেও পৌঁছাতে পারে। তবে এ ধরনের আশঙ্কার কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
সরকার জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার এবং সম্ভাব্য আফটারশকের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির জরুরি সেবা সংস্থা, সেনাবাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা



