নিজস্ব প্রতিবেদক : মাত্র ১৩ ভোট। এই অতি ক্ষুদ্র ব্যবধানই হয়তো নির্ধারণ করে দিতে পারে একটি ইতিহাস লেখা হবে, নাকি ইতিহাসের দুয়ারে গিয়েও থেমে যেতে হবে।
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০-এর ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী ও এনওয়াইপিডির সাবেক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল হক ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২,৬৯০ ভোট, আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিনেজ পেয়েছেন ২,৭০৩ ভোট। এখনও প্রায় ২ শতাংশ অ্যাবসেনটি (Absentee) ব্যালট গণনা বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এবারের নির্বাচনে নিউইয়র্কের পাঁচটি স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টে পাঁচজন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে একজনও বিজয়ী হলে তিনিই হতেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান সদস্য। সেই স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন শামসুল হক।

এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু একজন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণের বিষয় নয়; এটি পুরো বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির রাজনৈতিক অবস্থান ও অংশগ্রহণেরও একটি প্রতিচ্ছবি। মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধান নতুন করে মনে করিয়ে দিল, গণতন্ত্রে একটি ভোটও কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যবেক্ষকের মতে, বাংলাদেশি ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগে এখনও অনীহা দেখান। সমর্থনের আশ্বাস থাকলেও অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যান না। অথচ মাত্র কয়েকটি ভোটই একটি ঐতিহাসিক বিজয় কিংবা পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
তবে ফলাফল যাই হোক না কেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একসঙ্গে পাঁচজন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, কমিউনিটি এখন শুধু ভোটার নয়, নেতৃত্বের আসনেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে প্রস্তুত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেল—সংগঠিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, ভোটার সচেতনতা এবং প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব উপলব্ধি না করলে ইতিহাসের খুব কাছে গিয়েও বারবার ফিরে আসতে হতে পারে।
এখন সবার দৃষ্টি বাকি থাকা অ্যাবসেনটি ব্যালট গণনার দিকে। শেষ পর্যন্ত কি শামসুল হক ইতিহাস গড়বেন, নাকি মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানই হয়ে থাকবে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির এক দীর্ঘশ্বাস—সেই উত্তর মিলবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর।
ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা



