ফিলাডেলফিয়ার অলনি এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ লাখের বেশি ডিজিটাল ছবি ও ভিডিওতে প্রায় ৬০ জন ভিন্ন ব্যক্তিকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কয়েক মাস ধরে চলা তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বাড়িটির সঙ্গে এখন পর্যন্ত সাত নারীর যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তকারীরা জানান, ওই সাত নারীর মধ্যে পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ব্লেয়ার টনজেলি, অ্যামি ম্যাকহেল, মারিবেল ফ্রেসেস, গ্যাব্রিয়েল আমারান্ডো এবং নিকোল ফুসারো। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় তদন্তকারীরা জানলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। অন্য নারীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
পুলিশের দাবি, ওই দুই নারীর ছবি বা ভিডিওতে তাদের আহত, অচেতন কিংবা প্রাণহীন অবস্থায় দেখা গেছে। তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার করা হয়নি।
ডেপুটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক ভ্যানোর জানান, তদন্তে আরও ১০ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত মাদকের কারণে অসুস্থ বা অচেতন হয়েছিলেন। তবে তারা অলনির চিউ অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে নয়, ফিলাডেলফিয়ার অন্য কোনো স্থান বা ভিন্ন বাসভবনে এমন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিলেন। আরও ১৬ জনকে খুঁজে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেননি। তদন্তকারীরা আরও ২৫ জনের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, রেমন্ড হর্শকে নিকোল ফুসারোর গলা টিপে ধরতে দেখা যায়—এমন একটি ভিডিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে রয়েছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে ফুসারোকে নগ্ন অবস্থায় রেমন্ড হর্শের সঙ্গে দেখা যায়। সেখানে মাদক ব্যবহার, অর্থ দেওয়া এবং তাকে একটি বিছানার সঙ্গে হাতকড়া পরানোর দৃশ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একপর্যায়ে তার গলায় কোনো ধরনের চ্যানেল-লক যন্ত্র দিয়ে জিপ-টাই বাঁধার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে তদন্তকারীরা জানান।
মারিবেল ফ্রেসেস ও গ্যাব্রিয়েল আমারান্ডোর নামও আগে ডিজিটাল ফাইলগুলোতে পাওয়া নারীদের তালিকায় উঠে এসেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের দুজনকেই ছবিতে প্রাণহীন বলে মনে হয়েছে। আমারান্ডোর মা জানান, গোয়েন্দারা তাকে বলেছেন, তার মেয়েকে জীবিত অবস্থায় দেখানো ভিডিও এবং পরে মৃত বলে মনে হওয়া কিছু ছবি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল ফাইলগুলোতে এমন আরও কিছু নারীকে দেখা গেছে, যাদের অচেতন বা নিহত বলে মনে হলেও তদন্ত শুরুর পর তাদের জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, রেমন্ড হর্শ পর্নোগ্রাফিক ভিডিও তৈরি করতেন এবং এসব দৃশ্যের কিছু অংশ অভিনয়ও হতে পারে। কোনটি অভিনয় আর কোনটি বাস্তব, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চিউ অ্যাভিনিউয়ের ৪০০ ব্লকের ওই বাড়িটি ৪৪ বছর বয়সী ইউজিন হর্শের বাসা। নিখোঁজ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এমন অভিযোগে জুন মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাবা রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে মারা যান, তবে তদন্তে তিনি এখন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উঠে এসেছেন।
জুনে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়পত্র, মাদক, একটি আগ্নেয়াস্ত্র, কয়েক লাখ ছবি, ভিডিও, লেখা ও পাণ্ডুলিপি এবং অজ্ঞাত রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়। এসব রাসায়নিক কোনো মৃতদেহ গলিয়ে ফেলতে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রাসায়নিকগুলোর পরিচয় শনাক্ত করতে শিকাগোর একটি বিশেষ ফরেনসিক গবেষণাগারে পরীক্ষা চলছে। অন্যান্য আলামত থেকে ডিএনএ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণও করা হচ্ছে।
এফবিআই জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ফাইল পর্যালোচনার কাজ প্রায় ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। তদন্তকারীরা সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নতুন তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে বাড়িটিতে আবার যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।



