পেনসিলভেনিয়ার বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশে ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন সম্পন্ন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলের মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার ও খোলা মাঠে মুসল্লিদের ঢল নামে। তাকবির, দোয়া ও ঈদের শুভেচ্ছায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। ঈদের নামাজে অংশ নিতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে এবারের ঈদজামাতগুলো ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও আবেগঘন। এর মধ্যে নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ার জার্ডেল পার্কে বেসাপ (BESAP)-এর উদ্যোগে খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত বৃহৎ ঈদ জামাতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিরূপ আবহাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ঈমানের শক্তি ও ধর্মীয় আবেগে শত শত মানুষ সেখানে সমবেত হন। খোলা আকাশের নিচে একসাথে তাকবির ধ্বনি ও নামাজ আদায়ের সেই দৃশ্য অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টার, মসজিদ তাকওয়া ইসলামিক সেন্টার, সিরাতুল জান্নাহ সেন্টার, মসজিদ আল-সালাম, মসজিদ আল-ফুরকান এবং আল-রাশিদিন ইসলামিক সেন্টারসহ বিভিন্ন মসজিদে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে আপার ডার্বির মসজিদ আল-মদিনা, ইসলামিক সেন্টার অব ডেলাওয়্যার কাউন্টি, মুনা সেন্টার ও মসজিদ ওমরেও ছিল মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড়।

সেন্টার সিটি ও ওয়েস্ট ফিলাডেলফিয়ার বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ, ওয়েস্ট ফিলি জামে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার, আল-আকসা ইসলামিক সোসাইটি এবং মসজিদ আল-জামিয়াতেও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়া বেনসালেম জামে মসজিদ, নর্থ পেন মসজিদ, হ্যাটফিল্ড জামে মসজিদ এবং ল্যান্সডেল মাদ্রাসা ও মসজিদসহ আশপাশের আরও অসংখ্য মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের ঈদ জামাতের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল—অনেক স্থানে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা। ফলে মা-বোন ও শিশুদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ঈদের আনন্দকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে একসাথে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার দৃশ্য প্রবাসী জীবনে এক অন্যরকম আবেগ সৃষ্টি করে।
প্রতিটি জামাতে শত শত মুসল্লি এক কাতারে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে সেজদাবনত হন। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, পেশা বা অবস্থানের ভেদাভেদ ভুলে সবাই মিলিত হন এক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে। ঈদের এই মিলনমেলা প্রবাসে মুসলিম ঐক্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।
কাউন্সিল অন ইসলামিক রিলেশন্স (CAIR)-এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদুল আজহায় সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে ২,৬০০-এরও বেশি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নামাজ শেষে অনেক প্রবাসী পরিবার পশু খামারে গিয়ে কুরবানির পশু জবাই ও মাংস বণ্টনের কাজে অংশ নেন। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া ও কানেকটিকাটসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি দোকান ও খামারগুলো এবছরও কুরবানির বিশেষ আয়োজন করে। অনেকেই আগে থেকেই কুরবানির অর্ডার দিয়ে রেখেছিলেন এবং ঈদের দিন রাত কিংবা পরদিন মাংস সংগ্রহ করেন।

প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের জন্য কুরবানির এই আয়োজন হয়ে ওঠে এক বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুভূতির অংশ। ছোট ছোট শিশুরা নতুন পোশাক পরে ঈদের জামাতে অংশ নেয়, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের বাসায় ঘুরে বেড়ায় এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় সবার সঙ্গে।
চমৎকার আবহাওয়া ও উৎসবের আমেজে ঈদের নামাজ শেষে অনেকে ছুটে যান প্রিয়জনের বাসায় শুভেচ্ছা বিনিময়ে। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও ঈদ যেন সবাইকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়—ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, ত্যাগ ও আনন্দের বন্ধনে।
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই মিলন, ঈদ মানেই হৃদয়ের বন্ধন।
আশরাফুল ইসলাম আরিফ



