খেলা

বিশ্বকাপ ২০২৬ : গ্রুপ পর্ব শেষে ১২টি গ্রুপের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন

শেয়ার করুন:

গ্রুপ পর্ব শেষ। এখন পর্যন্ত প্রতিটি দলের পারফরম্যান্স বিচার করলে বোঝা যাচ্ছে, কারা শিরোপার প্রকৃত দাবিদার এবং কারা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। নিচে ১২টি গ্রুপের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন তুলে ধরা হলো।

গ্রুপ ‘এ’
মেক্সিকো স্বাগতিকের মর্যাদা রেখেছে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। তবে তাদের খেলায় এখনও সেই ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি, যা দিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব। শেষ ষোলোই হতে পারে তাদের সর্বোচ্চ গন্তব্য।

গ্রুপ ‘বি’
এই গ্রুপটি ছিল তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে দুর্বল। কানাডা স্বাগতিক হলেও বিশ্বমানের ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। সুইজারল্যান্ড অভিজ্ঞ দল হলেও বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো কিছু করতে পারেনি। এই গ্রুপ থেকে বড় কোনো চমক আসবে বলে মনে হয় না।

গ্রুপ ‘সি’
এটি ছিল সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গ্রুপগুলোর একটি। ব্রাজিল প্রত্যাশামতো শক্তিশালী ছিল, তবে মরক্কোও সমানতালে লড়ে প্রমাণ করেছে যে তাদের সাফল্য আর কাকতালীয় নয়। সঠিক ড্র পেলে দুই দলই কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।

গ্রুপ ‘ডি’
যুক্তরাষ্ট্র স্বাগতিক হিসেবে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। গতি, সংগঠন এবং আক্রমণভাগে তারা ছিল অত্যন্ত কার্যকর। এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা তারও বেশি দূর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রুপ ‘ই’
এই গ্রুপ ছিল সবচেয়ে হতাশাজনক। জার্মানি টুর্নামেন্টের আগে অন্যতম ফেবারিট হলেও তাদের খেলায় সেই কর্তৃত্ব দেখা যায়নি। অন্য দলগুলিও নিজেদের আলাদা করে তুলে ধরতে পারেনি।

গ্রুপ ‘এফ’
নেদারল্যান্ডস ও জাপান—দুই দলই দারুণ ছন্দে রয়েছে। বিশেষ করে জাপান তাদের দ্রুতগতির, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সাহসী ফুটবল দিয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক হয়ে উঠেছে। এই দুই দলই নকআউটে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ হবে।

গ্রুপ ‘জি’
বেলজিয়াম নিজেদের অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। তবে গ্রুপের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল মিশরের লড়াকু মানসিকতা। এই গ্রুপ থেকে বেলজিয়াম এগিয়ে থাকলেও নকআউটে তাদের কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

গ্রুপ ‘এইচ’
স্পেন আবারও প্রমাণ করেছে কেন তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তবে কেপ ভার্দেও সাহসী ও সংগঠিত ফুটবল খেলেছে। এই গ্রুপে স্পেনই সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে উঠে এসেছে।

গ্রুপ ‘আই’
ফ্রান্স প্রত্যাশামতোই শক্তিশালী ছিল। সেনেগালও দারুণ লড়াই করেছে এবং আফ্রিকান ফুটবলের শক্তিমত্তা তুলে ধরেছে। এই গ্রুপ ছিল শক্তি ও গতির দারুণ সমন্বয়।

গ্রুপ ‘জে’
আর্জেন্টিনা অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে। তবে আলজেরিয়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেছে। নকআউটে আর্জেন্টিনা আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবে।

গ্রুপ ‘কে’
পর্তুগাল নিয়ন্ত্রিত ও পরিণত ফুটবল খেলেছে। তবে ডিআর কঙ্গো এবং কলম্বিয়ার মতো দলগুলোও প্রতিপক্ষকে সহজে ছাড় দেয়নি। এই গ্রুপ ছিল ভারসাম্যপূর্ণ।

গ্রুপ ‘এল’
ইংল্যান্ড শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেদের অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্রোয়েশিয়াও অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। এই গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

গ্রুপ পর্ব শেষে আমার পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং (শীর্ষ ১০)
১. 🇧🇷 ব্রাজিল
২. 🇦🇷 আর্জেন্টিনা
৩. 🇪🇸 স্পেন
৪. 🇫🇷 ফ্রান্স
৫. 🏴 ইংল্যান্ড
৬. 🇳🇱 নেদারল্যান্ডস
৭. 🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্র
৮. 🇲🇦 মরক্কো
৯. 🇯🇵 জাপান
১০. 🇵🇹 পর্তুগাল

সবচেয়ে বড় চমক : জাপান, মরক্কো, কেপ ভার্দে।
সবচেয়ে হতাশাজনক দল : জার্মানি।
স্বাগতিকদের মধ্যে সেরা পারফরম্যান্স : যুক্তরাষ্ট্র।
শিরোপার প্রধান দাবিদার : ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
ডার্ক হর্স : জাপান ও মরক্কো।


আশরাফুল ইসলাম আরিফ 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *