আড্ডায় অনেক কথাই হয়। সব কথা সঙ্গে নিয়ে ঘরে ফেরা যায় না। কিছু কথা চেয়ার-টেবিলেই পড়ে থাকে, কিছু হারিয়ে যায় চায়ের কাপের পাশে; আবার দু-একটি কথা কানের ভেতর থেকে যায়—দিন পেরোলেও মনে পড়ে।
শিল্পী মশিউল চৌধুরীর মুখে শোনা তেমনই একটি কথা—
“আমরা যখন বাংলাদেশে থাকি, তখন বাচ্চাদের জন্য ইংরেজি স্কুল খুঁজি; আর দেশের বাইরে এলে ধর্ম শেখানোর জন্য হুজুর খুঁজি। মাঝখান থেকে বাংলা, নিজের দেশ আর সংস্কৃতিটাই হারিয়ে যায়।”
কথাটি শুনে মনে হলো, প্রবাসে আমাদের সন্তানদের বড় করে তোলার গল্পটি বুঝি এই কয়েকটি বাক্যের মধ্যেই আটকে আছে। ভাষা, ধর্ম, শিক্ষা, প্রযুক্তি—সবই প্রয়োজন; কিন্তু একটিকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকটিকে হারিয়ে ফেললে শেষ পর্যন্ত শিশুটির নিজের মাটিটুকু কোথায় থাকে?
মশিউলভাই প্রযুক্তির প্রসঙ্গেও বললেন, প্রযুক্তিকে থামানো যাবে না। তাকে পাশে নিয়েই চলতে হবে। শুধু খেয়াল রাখতে হবে—প্রযুক্তি যেন নেশা হয়ে মানুষকে গ্রাস না করে।
২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার, গাছবাড়ির চতুর্থ আড্ডার বিষয় ছিল—‘কী ভয়াবহ ধ্বংসলীলার মুখোমুখি হচ্ছে আমাদের প্রজন্ম’। ধ্বংসের পাশাপাশি সম্পর্ক, শিল্প, কবিতা, প্রযুক্তি ও পরিবেশ—সবই এসে মিশেছে কথার ভেতর। গাছবাড়ির আড্ডা বোধ হয় এমনই; একটি বিষয় নিয়ে বসে শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছেই ফিরে আসা।
সচরাচর যাঁরা থাকেন, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন; দু-চারজন আসতে পারেননি। এবারের অতিথি ছিলেন শিল্পী মশিউল চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী জিন্নাত চৌধুরী এনি।
পেশায় মশিউল চৌধুরী একজন চিকিৎসক। কিন্তু এদিন তিনি আমাদের কাছে চিকিৎসক হয়ে আসেননি, আমরাও তাঁকে সেভাবে দেখিনি। আমাদের আড্ডায় তাঁর পরিচয়—শিল্পী।

ছোটবেলা থেকেই তাঁর আঁকাআঁকি। স্কুল, কলেজ, মেডিকেল কলেজ—সব জায়গাতেই চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি তাঁর আরেকটি পরিচয় ছিল শিল্পী হিসেবে। বন্ধুদের সঙ্গে রাত বারোটার পর বেরিয়ে পড়তেন দেয়াল লিখতে। দেয়ালে আঁকা, দেয়ালে লেখা—তখন যাকে বলা হতো ‘চিকা মারা’।
সেই দেয়ালই একসময় তাঁর শিল্পের বড় পাঠশালা হয়ে উঠেছে।
দেশের কথা বলতে গিয়ে মশিউল ভাই বললেন, বাংলাদেশে গেলে রাস্তায় নেমেই তিনি অসংখ্য ছবি তোলেন। দেয়াল, রং উঠে যাওয়া অংশ, পুরোনো পোস্টারের ওপর নতুন পোস্টার, তার ওপর আবার রং—এসব তাঁর চোখে শুধু ক্ষয় নয়, একেকটি স্তর। সেই স্তরই পরে তাঁর পেইন্টিংয়ের বিষয় হয়ে ওঠে।
একটি দেয়ালে যেমন রং ওঠে, পোস্টার লাগে, কেউ লিখে যায়, কেউ মুছে দেয়, আবার নতুন রং পড়ে—মানুষের জীবনও কি তেমন নয়?
আজকের দিনটিও একটি স্তর। এই আড্ডাটিও একটি স্তর। সবার স্মৃতিতে তা সমানভাবে থাকবে না। কোনো কথা বহু বছর পরও হঠাৎ মনে পড়বে; কোনো কথা হয়তো কাল সকালেই ভুলে যাব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালের কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন—দেয়ালগুলো আপনার সঙ্গে কথা বলবে।
সত্যিই তো। তবে দেয়ালের কথা শোনার জন্যও কান লাগে।
মশিউলভাই হয়তো একটি পুরোনো দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে কথা বলে ফিরবেন, আর আমি হয়তো পাশ দিয়ে যেতে যেতে বলব—“কী নোংরা করে রেখেছে দেয়ালটা!”
দেখার এই পার্থক্যই সম্ভবত শিল্পের শুরু।
প্রকৃতি তো সারাক্ষণই কথা বলে। দেয়ালও বলে, গাছও বলে, আলোও বলে। সমস্যা হলো—আমরা অনেক সময় নিজেদের কথাই নিজেরা বুঝতে পারি না। ঝগড়া, ব্যস্ততা আর নানান কোলাহলে দিন কাটে; দেয়াল পড়ার সময় কোথায়!

বদরুজ্জামান আলমগীর ভাই মশিউল চৌধুরীর কথার সূত্র ধরেই নিজের স্মৃতি থেকে বললেন আজিজ মার্কেটের সময়কার কথা। তখন আজিজ মার্কেটে আড্ডা, পিজি হাসপাতালের পেছনের দেয়াল, শহরের নানা দেয়ালজুড়ে কত মানুষের কাজ। পলাশীর মোড়েও মশিউল ভাইয়ের কাজ দেখেছেন বলে স্মরণ করলেন তিনি।
তারপর তাঁর প্রশ্নটি গিয়ে পড়ল শিল্পের একেবারে ভেতরের জায়গায়। মশিউল ভাই দেয়ালের ছবি তোলেন, নানা দৃশ্য ক্যামেরায় ধরেন; আবার তাঁর পেইন্টিং অনেকটাই বিমূর্ত। অথচ ফটোগ্রাফ আর পেইন্টিংয়ের মধ্যে কোথাও যেন আত্মীয়তা আছে—খালাতো-ফুফাতো ভাইয়ের মতো।
প্রশ্ন হলো—ফটোগ্রাফি থেকে কি তাঁর শিল্পের চোখ খুলেছে, নাকি পেইন্টিংয়ের কারণেই ক্যামেরার চোখ বদলে গেছে?
উত্তর দিতে গিয়ে মশিউলভাই ফিরে গেলেন আরও পেছনে।
চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সে তাঁর আমেরিকায় আসা। তার আগেই আঁকাআঁকি ছিল, ফটোশপ-ইলাস্ট্রেটরের কাজও করতে হতো। শিল্পী বন্ধুদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল। সেই পরিচয় ও সান্নিধ্য পরবর্তী জীবনে তাঁকে নানাভাবে সাহায্য করেছে।
স্মৃতিতে এলেন শিল্পী হাশেম খান—তাঁর বাবার বন্ধু।
মশিউলভাই তখন ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। বাসায় আম, পেয়ারা, পাতা—এসব আঁকতেন। একদিন হাশেম খান তাঁর আঁকা পেয়ারা ও পাতার ছবি খুব খুঁটিয়ে দেখলেন। তারপর বললেন—
“বাবা, তোমাকে একটা কথা বলি—এই সবুজ পাতা কিন্তু সবুজ না।”
একটি শিশুর কাছে কথাটি নিশ্চয়ই অদ্ভুত। সবুজ পাতা যদি সবুজ না হয়, তবে কী?
মশিউলভাই বললেন, কথাটি বুঝতে তাঁর অনেক বছর লেগেছে। অথচ এত বছর পরও বাক্যটি তাঁর মনে স্পষ্ট—
সবুজ পাতা কিন্তু সবুজ নয়।

কারণ একটি সবুজ পাতার ওপর আলো পড়লে সেখানে শুধু সবুজ থাকে না। আলোর প্রতিফলন, ছায়া, চারপাশের রং—সব মিলিয়ে অসংখ্য বর্ণ সেখানে এসে বাসা বাঁধে। বাইরে থেকে আমরা তাকে এক নামে ‘সবুজ’ বলি; শিল্পীর কাজ সেই নামের ভেতর ঢুকে অন্য রংগুলো দেখা।
হয়তো মানুষও তেমন। আমরা খুব সহজে একজনকে একটি নাম, একটি পরিচয়, একটি ধারণার মধ্যে আটকে দিই। অথচ একটু আলো বদলালেই তার ভেতর থেকে অন্য রং বেরিয়ে আসে।
অনেক বছর পর, তখন মশিউল ভাই চিকিৎসক। তিন চিকিৎসক বন্ধু মিলে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করছেন। আবার গেলেন হাশেম খানের কাছে। তাঁর ভাষায়, হাশেম খানের সব ছবি হয়তো তাঁর পছন্দ নয়, কিন্তু পেইন্টিং তিনি অসাধারণ বোঝেন।
সেখানেও আরেকটি কথা তাঁর শিল্পজীবনে থেকে গেছে।
হাশেম খান বলেছিলেন, আমরা যে রেখা আঁকি, সেটিই তো প্রচণ্ড বিমূর্ত একটি বিষয়। পৃথিবীতে তথাকথিত বাস্তবতার অনুকরণ করতে গেলেও আমরা শেষ পর্যন্ত রেখাই টানি। অথচ প্রকৃতিতে আসলে কোনো রেখা নেই।
ভাবলে বিস্ময় লাগে—সত্যিই তো, আকাশ আর মাটির মাঝখানে কে রেখা টেনেছে? পাতার চারপাশে কালো পেনসিলের দাগ কোথায়? নদীর কিনারে কে রেখা এঁকেছে?
রেখাটি আমরা বানাই।
অথচ সেই কৃত্রিম রেখা ছাড়া শিল্পী আবার ছবির ভেতর এগোতেও পারেন না।
এই ভাবনাই মশিউল চৌধুরীর শিল্পদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে। তিনি বললেন, একজন শিল্পীর ভেতরে যা আছে, তার সবটা সরাসরি প্রকাশ করার দরকার নেই। অনেক কিছু মুছে দিতে হয়; অনেক কিছু নিজে থেকেই মুছে যায়। কখনো প্রকাশ না করাটাই অন্য ধরনের প্রকাশ হয়ে ওঠে।

দেয়ালে যারা চিকা মেরেছে, রাজনৈতিক স্লোগান লিখেছে কিংবা পোস্টার লাগিয়েছে—তারা হয়তো ‘শিল্প’ তৈরির উদ্দেশ্যে কাজটি করেনি। কিন্তু একজন শিল্পী সেই দেয়ালকে শিল্প হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। মানুষের উদ্দেশ্য এক জিনিস, শিল্পীর দেখা আরেক।
এইখানেই তাঁর কাছে বিমূর্ততার একটি গভীর অর্থ আছে—রেখা থাকবে, অথচ রেখাটিই যেন শেষ কথা না হয়।
মশিউলভাই ছাত্রাবস্থায় সাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন মেডিকেল কলেজে যেতেন। সেই যাত্রাপথে দেয়াল দেখতে দেখতে একসময় দেয়াল দেখাই তাঁর অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়। একজন ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট হিসেবে শহরের দেয়াল তাঁকে অসংখ্য কাজের উপাদান দিয়েছে।
এখন তিনি আমেরিকায় থাকেন। চারপাশে ফিলাডেলফিয়া শহর, এখানকার দেয়াল, আলো, মানুষ, রাস্তা, রং ও নগরজীবন। তাঁর প্রশ্ন—প্রতিদিন এই বাস্তবতার মধ্যে বাস করে যদি তিনি কেবল বাংলাদেশের নদী, নৌকা কিংবা রিকশাই আঁকতে থাকেন, তবে সেটি কি নিজের বর্তমানের প্রতি পুরোপুরি সৎ থাকা হবে?
বাংলাদেশ তাঁর স্মৃতিতে থাকবে, শৈশবে থাকবে, রঙের গভীরে থাকবে—তাকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু শিল্পী যে সময় ও ভূগোলে বাস করছেন, সেটিও তো তাঁর সত্য।
তাঁর কিছু শিল্পী-বন্ধু কখনো বলেন, তিনি পশ্চিমা ছবির দিকে ঝুঁকে গেছেন। মশিউল ভাই বিষয়টিকে সেভাবে দেখেন না। তাঁর দেখা, বেড়ে ওঠার পরের দীর্ঘ জীবন, মানুষের সঙ্গে চলাফেরা, প্রতিদিনের আলো-বাতাস—সবকিছুই এখনকার বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত। নিজের চারপাশকে অস্বীকার করে কেবল স্মৃতির দৃশ্য আঁকাকে তিনি নিজের সঙ্গে একধরনের অসততা বলেই মনে করেন।
এই জায়গাটিই আমার কাছে তাঁর কথার সবচেয়ে জরুরি অংশগুলোর একটি মনে হয়েছে। মানুষ দেশ ছাড়ে, কিন্তু দেশ মানুষকে পুরোপুরি ছাড়ে না। আবার নতুন দেশেও মানুষ শুধু শরীর নিয়ে বাস করে না; নতুন রাস্তা, দেয়াল, আলো, ভাষা ও মানুষেরাও ধীরে ধীরে তার স্মৃতির অংশ হয়ে যায়।
ফলে প্রবাসীর ভেতরেও তৈরি হয় একের পর এক স্তর—ঠিক সেই পুরোনো দেয়ালের মতো।
আড্ডায় আলী সিদ্দিকী কথা বলেন এবং তিনটি কবিতা পাঠ করেন। কবিতা আবৃত্তি করেন দিলরুবা আফরোজ রুবা, রুমানা আলম ও আব্দুল হাফিজ চৌধুরী ইমু। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আব্দুল হাফিজ চৌধুরী ইমু।
সম্পর্ক নিয়ে আমার কথার জায়গাটি ছিল কিছুটা ভিন্ন।
আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দেশগুলোর একটিতে বসবাস করছি। আমার প্রশ্ন ছিল—এই বিপুল জ্ঞান, বুদ্ধি ও প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত মানুষের কতটা কল্যাণ করছে?
প্রযুক্তি এখন দূরত্ব ভেঙে দিয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতার ধরন বদলে দিয়েছে, যুদ্ধ ও নজরদারির ভাষাও বদলে দিয়েছে। পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে অন্য প্রান্তের মানুষের জীবন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অথচ সেই একই পৃথিবীতে ছোট ছোট দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও অনেক সময় পায় না।
তখন ‘সম্পর্ক’ শব্দটির অর্থ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?

শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে দুর্বল রাষ্ট্রের সম্পর্ক, প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, ক্ষমতার সঙ্গে মানবিকতার সম্পর্ক—এসব প্রশ্নকে বাদ দিয়ে শুধু ব্যক্তি-সম্পর্কের ভাঙন নিয়ে কথা বললে আমার কাছে আলোচনাটি অসম্পূর্ণ মনে হয়।
আমি নিজের দেশের মানুষের ভুলও এখন আগের মতো সরল চোখে দেখতে পারি না। অভাব, শিক্ষা ও সুযোগের বৈষম্যের মধ্যে একজন মানুষ যে শুধু টিকে আছে—সেটিও অনেক বড় লড়াই। ভুল সে করবে। কিন্তু যাদের জ্ঞান, সম্পদ ও প্রযুক্তির অভাব নেই, তাদের ভুলের দায়ও কি একই মাপে মাপা যায়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করিনি। কয়েকটি ছোট গল্প পড়ে আমার কথার অংশ শেষ করেছি। কারণ কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর বক্তব্যে পাওয়া যায় না; গল্পের ভেতর রেখে দিলে হয়তো সে প্রশ্ন আরও কিছুক্ষণ মানুষের সঙ্গে হাঁটে।
মুরাদ হোসেনের গান ছিল আড্ডার আরেকটি সুন্দর মুহূর্ত। কোনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই খালি গলায় তাঁর গান শুনে সবারই ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে—এটাই বুঝি আড্ডার গান। কোনো আয়োজনের ভার নেই, মঞ্চের দূরত্ব নেই; মানুষ থেকে মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে যাওয়া একটি কণ্ঠ।
আড্ডায় আরও ছিলেন নার্গিস পারভীন, ফারুক সলিমল্লাহ ও হেনা হোসেন।
শুরুতেই কবি কাউসারী মালেক রোজী আপা সুন্দর একটি শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সবাইকে স্বাগত জানান। শেষেও তাঁর বক্তব্য ও কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে আড্ডার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
কিন্তু আড্ডা কি সত্যিই শেষ হয়?
ঘর ফাঁকা হয়, চেয়ার সরে যায়, মানুষ যার যার বাড়ি ফিরে যায়। তারপরও কোনো একটি বাক্য সঙ্গে চলে আসে।
আমার সঙ্গে এবার এসেছে—
“সবুজ পাতা কিন্তু সবুজ নয়।”
হয়তো একটি বিকেলের সমস্ত কথার মধ্যে এই একটি বাক্যই বহুদিন থেকে যাবে। কারণ আমরা যা দেখি, তা-ই সব নয়। একটি পাতার সবুজের ভেতরে যেমন বহু রং লুকিয়ে থাকে, একটি দেয়ালের ওপর যেমন জমতে থাকে সময়ের পর সময়, তেমনি মানুষ, সম্পর্ক, দেশ, স্মৃতি—সবকিছুরই দৃশ্যমান রঙের নিচে আরও অনেক স্তর থাকে।
দেয়াল তাই শুধু দেয়াল নয়।
রেখা শুধু রেখা নয়।
সবুজও কেবল সবুজ নয়।
আর একটি আড্ডাও কেবল কয়েক ঘণ্টা একসঙ্গে বসে থাকা নয়—কখনো কখনো তা আমাদের দেখার চোখে আরেকটি নতুন স্তর রেখে যায়।
আহমদ সায়েম : অন্যান্য রচনা
কবি ও গদ্যকার



